জন্মদিনের রাতেই রক্তাক্ত কালীঘাট! মধ্যরাতে কেন রাজপথে ধর্ণায় বসলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

জন্মদিনের আনন্দ-উৎসবের মধ্যরাতেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের সূচনা লগ্নেই তাঁর বাসভবনের সামনে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বাঁধল তুমুল সংঘর্ষ। ধস্তাধস্তি, ইটবৃষ্টি, পোস্টার ছেঁড়া এবং একের পর এক উত্তপ্ত স্লোগানে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে নামাতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাফ (RAF)। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্যরাতে নিজের বাড়ির বাইরে রাস্তায় এসে ধর্ণায় বসে পড়েন এবং ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজপথেই অবস্থান করেন।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার মধ্যরাতের পর, অর্থাৎ ৭ নভেম্বর অভিষেকের জন্মদিনের একদম শুরুতেই। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে প্রচুর সংখ্যায় জড়ো হয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকেরা। অভিযোগ, রাত আনুমানিক দুটো নাগাদ একদল বিজেপি কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে হঠাৎ করেই ‘চোর চোর’ এবং ‘গরু চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, রাস্তায় থাকা অভিষেকের কাট-আউট, ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল কর্মীরা বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও হাতাহাতি বেঁধে যায়। এতে বেশ কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক আহত হন।

খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পরেই নিজ বাসভবন থেকে রাস্তায় নেমে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে উত্তেজনা তাতে কমেনি। অভিযোগ, অভিষেক নামার পর বিজেপি কর্মীরা ফের আরও উচ্চস্বরে কুরুচিকর স্লোগান দিতে থাকে। একপাশে অভিষেকের ছবি ও কাট-আউট হাতে তৃণমূল সমর্থকেরা আওয়াজ তোলেন, অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া ব্যানার নিয়ে বিজেপি সমর্থকেরা পাল্টা ‘গরু চোর, মাছ চোর’ স্লোগান দিতে থাকে।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এলাকায় নামানো হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)। পুলিশ প্রশাসন অভিষেককে শান্ত হয়ে বাড়ির ভেতরে ফিরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানায়। কিন্তু রোষে ফেটে পড়েন সাংসদ। অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো অবস্থাতেই তিনি রাজপথ খালি করবেন না। রাত দুটো থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নিজের অনুগামীদের সাথে বাড়ির বাইরে রাস্তায় বসেই অবস্থান চালিয়ে যান তিনি।

অভিষেকের মূল অভিযোগ ছিল, সংঘর্ষের পর পুলিশ নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না করে উল্টে তাঁদের এক তৃণমূল কর্মীকে বেআইনিভাবে আটক করেছে। তিনি পুলিশকে আল্টিমেটাম দেন যে, যতক্ষণ না আটক কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তিনি রাস্তা ছাড়বেন না। অবশেষে ভোর ৬টা নাগাদ পুলিশ আটক তৃণমূল কর্মীকে ছেড়ে দিলে পুলিশের অনুরোধ মেনে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কালীঘাটের বাসভবনে আসেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁরা ওই পথ দিয়ে কালীপুজোর প্রতিমা নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে। যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাতাহাতি শুরু হয়। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের হামলায় তাঁদেরও একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। জন্মদিনের রাতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই অভূতপূর্ব সংঘাতকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *