খোদ নরেন্দ্র মোদির নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার সাইবার স্ক্যাম! কলকাতার হেস্টিংসের ভুয়ো কল সেন্টারে লালবাজারের হানা

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র থেকে ফের এক বিশাল সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল লালবাজার। খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম এবং সরকারি প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল। কলকাতার হেস্টিংস এলাকার একটি অভিজাত বহুতলে হানা দিয়ে পাঁচ মহিলা-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের ডেটা লিস্ট।
প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ ওয়াইফাই যোজনার নামে জালিয়াতি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেস্টিংসের ১২ নম্বর গভর্নমেন্ট প্লেস (ইস্ট)-এর একটি বহুতলে ওই ভুয়ো কল সেন্টারটি চালানো হচ্ছিল। হেয়ার স্ট্রিট থানার অন্তর্গত ওই বহুতলে অফিস ভাড়া নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফোন করা হতো।
প্রতারকরা সরকারি আধিকারিক সেজে সাধারণ মানুষকে ফোন করে ‘পিএম ওয়াইফাই যোজনা’ (PM Wi-Fi Yojana)-র লোভনীয় অফার দিত। গ্রাহকদের বলা হতো, এই সরকারি প্রকল্পের অংশীদার হলে তাঁরা সারাজীবন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা পাবেন। এমনকি কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে তাও বিনামূল্যে সারিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। সাধারণ মানুষ এই ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লালবাজারের মেগা অভিযান
বেশ কিছুদিন ধরেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের খবর লালবাজারের কাছে আসছিল। এর পরেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা ওই নির্দিষ্ট অফিসটির সন্ধান পান। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বহুতলের ওই অফিসে হিতকরী অভিযান চালায় পুলিশ বাহিনী।
ঘটনাস্থল থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত নথি, ডেটা লিস্ট এবং প্রতারকদের ব্যবহৃত বিশেষ ‘স্ক্রিপ্ট’ বাজেটাপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ এই চক্রের মূল ম্যানেজার কৃষ্ণেন্দু সাহা এবং পাঁচজন মহিলা টেলিকলারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।
বড় কোনো মাথা যুক্ত রয়েছে কি না দেখছে পুলিশ
কলকাতার অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। মহানগরের বুকে এই সাইবার প্রতারণার জাল আর কত দূর বিস্তৃত এবং এই চক্রের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পাণ্ডা কে, তা খুঁজে বের করতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার। উৎসবের মরশুমে শহরের বুকে এমন ভুয়ো কল সেন্টারের রমরমা প্রকাশ্যে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।