দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! অবশেষে প্রকাশিত এসএসসি গ্রুপ সি ও ডি-র মেগা রেজাল্ট, ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পেলেন কত জন?

দীর্ঘ টালবাহানা এবং আইনি জটিলতার জয়ে অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলো। পরীক্ষার ফাইনাল ফলাফলের সঙ্গেই ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত সফল প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করে দিয়েছে কমিশন। পরীক্ষার্থীরা এখন এসএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের ফলাফল ও মেধা তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা সহজেই যাচাই করে নিতে পারবেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই বিরাট আপডেট সামনে আসতেই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শূন্যপদ ও ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়ার পরিসংখ্যান
কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট শূন্যপদ ও প্রাথমিক তালিকার হিসাবটি নিম্নরূপ:
-
গ্রুপ ডি পদ: এই বিভাগে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ৫,৪১৮টি। এর বিপরীতে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৭,০০০ জন প্রার্থীকে সফল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
-
গ্রুপ সি বা ক্লার্ক পদ: এই পদে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ২,৯৮৯টি। এই বিভাগে ইন্টারভিউয়ের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন প্রায় ১১,০০০ প্রার্থী।
প্রাথমিক তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের পরবর্তী পর্যায়ে কাউন্সেলিং ও নথি যাচাইয়ের (Document Verification) জন্য তলব করা হবে। সেই নির্দিষ্ট দিনে সমস্ত মূল শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে হাজির থাকতে হবে। নথি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই চূড়ান্ত মৌখিক ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সমস্ত প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ খুব শীঘ্রই কমিশনের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
২০১৬-র প্যানেল বাতিল থেকে আজকের ফলপ্রকাশ: এক নজরে গোটা পথ
উল্লেখ্য, দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক জটিলতার জেরে গত ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরনো প্যানেলের আওতায় থাকা বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। রাতারাতি চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন অজস্র গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ কর্মী, বন্ধ হয়ে যায় তাঁদের মাসিক বেতনও।
এরপর চাকরিহারা সেই সমস্ত শিক্ষাকর্মীদের জন্য নতুন করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে এসএসসি। অবশেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রাজ্যজুড়ে গ্রুপ ‘সি’ ও গ্রুপ ‘ডি’ পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষা মিটলেও ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটে (সংরক্ষণ হার ১৭% থেকে কমিয়ে ৭% করার সিদ্ধান্ত) নতুন করে রোস্টার ও শূন্যপদের হিসাব তৈরি করতে গিয়ে ফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছিল।
অবশেষে সমস্ত বাধা কাটিয়ে সংশোধিত শূন্যপদের তালিকা মেনেই ফল ও ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কাটল এবং বহু প্রতীক্ষিত চাকরির দরজা ফের খুলল।