“ভয় আউট, ভরসা ইন!” ধনতেরাসের আলোয় রাজ্যে নতুন শিল্পনীতির খসড়া ঘোষণা, এবার কি ঘুচবে কর্মসংস্থানের খরা?

তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং কাটমানি সংস্কৃতির চিরতরে অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলার মাটিতে শিল্পের অনুকূল ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধনতেরাস ও দীপাবলির এই পবিত্র আবহে রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত নতুন শিল্পনীতির খসড়া ঘোষণা করে তিনি জোরালো দাবি করলেন যে, দীর্ঘদিনের পুরনো জট ও অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজ্যে লগ্নির নতুন দরজা খুলে দিতে বদ্ধপরিকর সরকার। বিশেষ করে শিল্পের জন্য জমি জোগাড়ের জটিলতা কাটাতে ঐতিহ্যবাহী আইনের পাশাপাশি এবার ‘ল্যান্ড পুলিং’ (Land Pooling) পদ্ধতির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করেন, “আমাদের প্রথম স্লোগান হচ্ছে—ভয় আউট, ভরসা ইন। আর চূড়ান্ত স্লোগান—ইনভেস্ট ইন বেঙ্গল, গ্রো উইথ বেঙ্গল!”
তিন মাসের পর্যালোচনা ও খসড়া তৈরি
রাজ্য সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ তিন মাস ধরে বিভিন্ন মন্ত্রীগোষ্ঠীর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এবং শিল্পমহলসহ বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও পরামর্শ নিয়েই এই নতুন শিল্পনীতির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। অতীতে কেন বাংলায় কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন হয়নি, তার এক নিরপেক্ষ ব্যবচ্ছেদও শোনা যায় তাঁর মুখে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাম আমলের উগ্র ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের জেরে বাংলার চটকল, চা বাগান থেকে শুরু করে ভারী শিল্পের ভিত মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিক নীতি প্রণয়ন করা হয়নি, যার ফলে রাজ্যের শিল্পায়নের গতি বারবার হোঁচট খেয়েছে।
নতুন শিল্পনীতির মূল চাবিকাঠি ও লক্ষ্য
অতীতে সঠিক জমি নীতির অভাবেই যে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা ধাক্কা খেয়েছে, তা স্বীকার করে নতুন নীতিতে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ বাতলেছে সরকার। জবরদস্তি জমি অধিগ্রহণের বদলে মালিকদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ‘ল্যান্ড পুলিং’ মডেলকে সামনে রেখে শিল্পে বিনিয়োগ টানার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে মুখ্যমন্ত্রীর এই বড় শিল্পনীতির ঘোষণা রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মনে নতুন আশার আলো ছড়িয়েছে। এখন দেখার, সরকারের এই ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ নীতিকে পাথেয় করে দেশের বড় শিল্পপতিরা কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলায় লগ্নি করতে এগিয়ে আসেন।