কসবায় পরিত্যক্ত অডি গাড়ি থেকে নামছে দুর্গন্ধ! দরজা খুলতেই ধসে পড়ল পুলিশ, ভিআইপি গাড়িতে পচাগলা কঙ্কালসার দেহ?

দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকায় এক পরিত্যক্ত বিলাসবহুল অডি (Audi) গাড়ির ভিতর থেকে পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ও চাঞ্চল্যকর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। জিএসটি (GST) ভবনের ঠিক সামনে রাস্তার ধারে থাকা একটি অস্থায়ী গ্যারেজে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দামী চারচাকা গাড়ি থেকে হঠাৎই উৎকট পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। এরপরই কসবা থানা এবং কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখার বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলতেই উদ্ধার হয় এক ব্যক্তির বিকৃত ও পচাগলা দেহ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় গা-ছমছমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বুকে এমন একটি নামী ব্র্যান্ডের পরিত্যক্ত গাড়িতে কীভাবে দেহ এল, মৃত ব্যক্তিই বা কে—তা নিয়ে দানা বাঁধছে একের পর এক প্রশ্ন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কালীপুজো ও দুর্গাপুজোর সময় থেকেই ওই নির্দিষ্ট পরিত্যক্ত গাড়িটির আশপাশ থেকে হালকা পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রথমদিকে বিষয়টি কেউ সেভাবে গায়ে মাখেননি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গন্ধের মাত্রা চরম রূপ ধারণ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহবশত তড়িঘড়ি কসবা থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কসবা থানার পুলিশ এবং লালবাজারের বিশেষ শাখা হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট। উল্লেখ্য, যেকোনো জটিল ও রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের জটিল জট ছাড়াতে গোয়েন্দা বিভাগের এই বিশেষ হোমিসাইড শাখাই তদন্তে প্রধান ভূমিকা নেয়।
তদন্তে উঠে আসা প্রাথমিক তথ্য ও প্রশ্ন
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন:
-
যে অস্থায়ী গ্যারেজে গাড়িটি রাখা ছিল, তার তিনটি দরজা ইতিমধ্যেই খোলা বা আনলক অবস্থায় ছিল।
-
তবে গাড়ির প্রতিটি দরজার কাচ পুরোপুরি তোলা বা বন্ধ ছিল।
-
ফলে বাইরে থেকে যে কেউ চাইলেই গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে পারত বা অনায়াসে কাউকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।
খুন নাকি দুর্ঘটনা? জোড়া সম্ভাবনা
ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে দুটি মূল দিক খতিয়ে দেখছে:
১. ভবঘুরের মৃত্যু: কোনো ভবঘুরে বা গৃহহীন ব্যক্তি হয়তো আশ্রয়ের খোঁজে খোলামেলা গাড়িটিতে রাতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে অসুস্থতা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
২. পরিকল্পিত খুন: পেশাদার কোনো দুষ্কৃতী বা শত্রুতা বজায় রেখে অন্য কোথাও খুন করে দেহ প্রমাণের সুবিধার্থে বা আড়াল করতে এই পরিত্যক্ত বিলাসবহুল গাড়িতে এনে ফেলে রেখে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহের অবস্থা অত্যন্ত বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বয়স বা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য দেহটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং সময় স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে লালবাজার গোয়েন্দা শাখা। কসবার মতো জনবহুল এলাকায় জিএসটি ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ের সামনে এ হেন রহস্যজনক মৃত্যুতে ধোঁয়াশা ক্রমেই বাড়ছে।