দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ! ভারতীয় রেলের মাথায় উঠল সাফল্যের রাজমুকুট, দিল্লিতে পেলেন বড় পুরস্কার

প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তি বা ‘রিনিউয়েবল এনার্জি’র ব্যবহার বাড়িয়ে পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও বিভাগকে পিছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে তারা।
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘রিনিউয়েবল এনার্জি সামিট অ্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এ ভারতীয় রেলের এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মর্যাদাপূর্ণ ‘পিএম সূর্য ঘর এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ রেল মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের হাতে এই বিশেষ সম্মান তুলে দেন।
‘পিএম সূর্য ঘর’ যোজনায় বিরাট সাফল্য
কেন্দ্র সরকারের জনপ্রিয় ‘পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’-র অধীনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সরকারি ভবনে সফলভাবে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্যাটেগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে রেল মন্ত্রক। দেশজুড়ে সবুজ শক্তির প্রয়োগ বাড়াতে রেল যে মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল, তার বেশিরভাগ অংশই ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
-
বিশাল লক্ষ্যমাত্রা: সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা মোট ১৫,৮৬৮টি উপযুক্ত রেল ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল মন্ত্রক।
-
দুর্দান্ত অগ্রগতি: নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ইতিমধ্যেই ১২,৪৯৫টি ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম বসানোর কাজ শেষ হয়ে গেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৯ শতাংশ!
-
বিদ্যুৎ উৎপাদন: রেলের লক্ষ্য ছিল সোলার প্যানেল থেকে মোট ৪২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, যার মধ্যে ৩৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পুরোদমে চালু করা হয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যানে রেলের সিংহভাগ অবদান
পুরো দেশের নিরিখে দেখলে বোঝা যায়, ৭৭টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও বিভাগের অধীনে থাকা ৩৯,১৩৫টি সরকারি ভবনের মধ্যে ২৫,৯৮৪টি ভবনে (প্রায় ৬৬ শতাংশ) সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এই জাতীয় সাফল্যের একটা সিংহভাগ অবদানই রয়েছে ভারতীয় রেলের ঝুড়িতে।
রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশের বাকি সমস্ত উপযুক্ত রেল ভবনেও ১০০% সোলার প্যানেল বসিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং শক্তি-সাশ্রয়ী ভারত গড়ার এই ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন করা হবে।