কালীপুজোর আগেই থরথর কাঁপছে দুই জেলা! ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক থেকে ৩৮টি বন্দুক— STF-এর মহাহানায় মহাতঙ্ক

উৎসবের মরসুমে আলোর উৎসব কালীপুজোর মুখে রাজ্যজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক কিংবা বেআইনি অস্ত্র চালানের সম্ভাবনা পণ্ড করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। রাজ্যের দুই জেলা—বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হলো বিপুল পরিমাণ মারাত্মক বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ।
বীরভূমের মুরারই থেকে যেমন উদ্ধার হয়েছে ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটোনেটর এবং ১২ হাজার মিটার ডিটোনেটিং কর্ড; তেমনই পশ্চিম বর্ধমানে এসটিএফের টানা অভিযানে জালে ধরা পড়েছে একের পর এক সমাজবিরোধী এবং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে মোট ৩৮টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
বীরভূমে বিস্ফোরকের পাহাড়: অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের হানা
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বীরভূমের মুরারই থানার বড়োয়া গোপালপুর গ্রামে যৌথ হানা দেয় এসটিএফ-এর আধিকারিকরা। তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় এক বিশাল বিস্ফোরকের ভাণ্ডার।
ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজগ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুডা এবং সিউড়ির তিলপাড়ার বাসিন্দা মুকেশ সিংকে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের বিপুল পরিমাণ দেখে আঁতকে উঠছেন তদন্তকারীরাও।
এত বিশাল পরিমাণ জিলেটিন স্টিক ও ডিটোনেটর কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল এবং এর পেছনে কোনো বড় জঙ্গি গোষ্ঠী বা নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্তভার হাতে নিয়েছে এসটিএফ-এর অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)।
পশ্চিম বর্ধমানে কয়লা মাফিয়ার কাছ থেকে মিলল অস্ত্রাগার
বীরভূমের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও বেআইনি অস্ত্রের সন্ধানে ব্যাপক মেগা ড্রাইভ চালায় এসটিএফ। গত ৩ ও ৫ নভেম্বর আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন পাণ্ডবেশ্বর থানা এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে শেখ সাহাজান নামে এক দুর্ধর্ষ সমাজবিরোধীকে গ্রেফতার করা হয়।
অস্ত্র পাচার ও কয়লা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত শেখ সাহাজানের কাছ থেকে একাই উদ্ধার হয়েছে ২১টি বেআইনি অস্ত্র এবং ৬৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। যার মধ্যে রয়েছে:
-
৬টি লম্বা মাস্কেট
-
৪টি ৭ মিমি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল
-
১১টি পাইপগান
-
৮ মিমি এবং ৭.৬৫ মিমি মাপের মোট ৬৫ রাউন্ড তাজা গুলি
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই নির্দিষ্ট মামলাতেই এর আগে খাইরুল আলম ও মহম্মদ শামশের নামে আরও দুই দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করা হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে যথাক্রমে ২টি ও ১৫টি অস্ত্র পাওয়া যায়। অর্থাৎ কেবল পশ্চিম বর্ধমানের এই একটি মামলাতেই এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হলো।
কালীপুজোর মতো স্পর্শকাতর উৎসবের মুখে দুই জেলা থেকে এমন বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর রাজ্যজুড়ে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই আন্তঃরাজ্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার চক্রের মূল শিকড় কোথায়, তা জানতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে টানা জেরা চালাচ্ছেন এসটিএফ-এর গোয়েন্দারা।