“সামনাসামনি লড়ুন, পালাবেন না!” রাহুল গান্ধীর মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে হুলস্থুল ফেললেন অমিত শাহ

বিতর্কের ময়দানে রাহুল গান্ধীর ছুড়ে দেওয়া খোলা চ্যালেঞ্জ এবার সটান গ্রহণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে রাজপথ বা সাধারণ সভা নয়, মুখোমুখি বাকযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ সংসদ ভবনকেই। বৃহস্পতিবার হরিয়ানার কারনাল শহরে বিজেপির বিশেষ পদযাত্রায় বক্তব্য রাখার সময় অমিত শাহ পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে রাহুল গান্ধীকে সংসদের অন্দরে এসে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যুক্তিপূর্ণ আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
“সামনাসামনি লড়াই হোক!”— শাহের খোলা চ্যালেঞ্জ
কারনালে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হঠাও’ শীর্ষক বিশাল পদযাত্রা শেষে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আপনি (রাহুল গান্ধী) যদি সত্যিই দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক আলোচনা করতে চান, আর আপনার কথায় যদি সামান্যতম যুক্তি ও সারবত্তা থাকে, তবে আসুন, সংসদের ভেতরে এসে বসুন। আসুন, মুখোমুখি সামনাসামনি লড়াই হোক! কিন্তু সমস্যা হলো আপনি তো উত্তর সামলাতে পারবেন না; বরাবরের মতো এবারও ভয়ে মাঝপথ থেকে পালিয়ে যাবেন।”
বিরোধীদের প্রকাশ্য জনসভাকে স্রেফ একটি রাজনৈতিক “গিমিক” এবং প্রচারের সস্তা কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শাহ। তিনি জানান, কংগ্রেস যদি সংবিধানে উল্লেখিত নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়, তবে যে কোনো বিষয়—এমনকি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্র সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি যোগ করেন, “আমি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছি। আপনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছেন? প্রধানমন্ত্রীকে একটা আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখুন, আমরা স্পেশাল সেশন ডাকব।”
মাঠের জবাব মাঠে, সংসদের জবাব সংসদে
এদিন শাহ স্পষ্ট করে দেন যে, গ্রাম থেকে বুথ স্তর—সর্বত্রই বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে কড়া জবাব দিতে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা প্রস্তুত। “আপনারা কি মনে করেন ৮০ বছরের পুরনো এই পরিপক্ক গণতন্ত্র আপনাদের ছলনায় বিভ্রান্ত হবে? রাহুলজি, আমরা রাজপথ থেকে উঠে আসা লোক। বিজেপি আপনাকে সংসদে, বিধানসভায়, গ্রামে এবং মাঠে-ময়দানে যোগ্য জবাব দেবে। আপনারা যদি রাস্তায় ভিড় জমিয়ে নৈরাজ্য ছড়াতে চান, তবে আমাদের কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত থেকে কড়া জবাব দিয়ে আসবে।”
কারনালে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পদযাত্রায় সাইনি নিজেও পা মেলান, যা সেখানে বিজেপির আগ্রাসী প্রচার রূপরেখারই অন্যতম নিদর্শনে পরিণত হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত
দিনকয়েক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি এক বিতর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, একদিকে তিনি থাকবেন এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী। এমনকি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত বা প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের কেউ মধ্যস্থতাকারী বা বিচারক হলেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই। রাহুলের এই প্রস্তাবের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো শুরু করে। এবার সরাসরি মাঠে নেমে অমিত শাহ সংসদের দরজা খুলে দেওয়ার ঘোষণা করায় জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বেড়ে গেল।