কালীপুজোর আগেই ধর্মতলায় গোয়েন্দাদের বড় ধাক্কা! বাসস্ট্যান্ডে ঘিরে ফেলে ধৃত তিন পাচারকারী, বাজেয়াপ্ত বিপুল গাঁজা

উৎসবের মরসুমে আলোর উৎসব কালীপুজোর মুখে তিলোত্তমায় বড়সড় মাদক পাচারের ছক পণ্ড করল কলকাতা পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ঝটিতি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ তিন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের নারকোটিক্স সেল।

বুধবার ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পিডব্লিউডি (PWD) সাইট অফিসের কাছ থেকে সন্দেহভাজন অবস্থায় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ওই তিনজনকে। ধৃতদের নাম আব্দুল হক ওরফে বাবু (৪৮), অঞ্জু শেখ (৩২) ও আতাবুর শেখ (২৭)। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনের বাড়িই মুর্শিদাবাদ জেলায়। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল জানান, “এই আন্তঃরাজ্য চক্রের মূল শেকড় কোথায়, তা জানতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ জেরা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”

গোয়েন্দাদের গোপন অভিযান ও উদ্ধার

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ময়দান থানা এলাকার এসপ্ল্যানেড (ধর্মতলা) বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ঘেরাও করে অভিযান চালান নারকোটিক্স সেলের আধিকারিকরা। সেখানে সন্দেহভাজন তিনজনকে ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তাদের কাছ থেকে মোট ১৪.৫৫৯ কেজি উন্নতমানের গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তল্লাশি ও মাদক বাজেয়াপ্ত করার এই পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি আধিকারিক ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কঠোর আইনি বিধি মেনে সম্পন্ন করা হয়। অভিযানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো সময়টির ভিডিয়োগ্রাফিও করেছেন গোয়েন্দারা।

ওড়িশা কানেকশন ও নেটওয়ার্ক

ঘটনার পর নারকোটিক্স সেলের সাব-ইন্সপেক্টর প্রশান্ত কুমার রায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ময়দান থানায় এনডিপিএস (NDPS) আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার নারলা অঞ্চল থেকে এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা সংগ্রহ করেছিল পাচারকারীরা। কালীপুজো ও দেওয়ালি উপলক্ষে কলকাতা এবং তার আশেপাশের এলাকার ছোট ছোট খুচরো মাদক কারবারিদের কাছে তা বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই শহরে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের নেপথ্যে মূল হোতা কারা রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

উল্লেখ্য, এর আগেও অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রমপাড়ায় গোপন সূত্রে অভিযান চালিয়েছিল জেলা পুলিশ ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)। সে সময় এক বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ২৩ কেজি গাঁজা এবং নগদ ২৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। একের পর এক এসব ঘটনায় পরিষ্কার, রাজ্যজুড়ে মাদক পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে চরম তৎপরতা দেখাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *