৬ বছর পর চাঞ্চল্যকর মোড়! নাড্ডার কনভয়ে নজিরবিহীন হামলাকাণ্ডে পুলিশের জালে ‘অভিষেক ঘনিষ্ঠ’ প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করা জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলাকাণ্ডে ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূলের এক প্রভাবশালী যুব নেতা। উস্তি থানার পুলিশ বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দেউলা সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ইমরান হাসানকে, যিনি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার যুব তৃণমূল সভাপতি পদে ছিলেন। এই গ্রেফতারির ফলে বহুল আলোচিত এই মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ইমরান হাসানের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ফলতা ও সরিষা এলাকায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়ে হামলা চালানো ছাড়াও নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মারধর, হুমকি ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ ঝুলছিল।
যেভাবে ঘটেছিল সেই নজিরবিহীন ঘটনা
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একুশের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে দলীয় সভা করতে যাচ্ছিলেন বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। কনভয়ে তাঁর সঙ্গেই ছিলেন বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব।
অভিযোগ, সরিষা ও শিরাকোল মোড় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই হঠাৎই কনভয় লক্ষ্য করে বাঁশ, লাঠি ও ভারী ইটবৃষ্টি শুরু হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় দিলীপ ঘোষের গাড়ির কাচ, ইটের আঘাতে গুরুতর চোট পান কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এরপর ফলতা এলাকাতেও একইভাবে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাই সে সময় জাতীয় রাজনীতিতেও তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল।
ছয় বছর পর যেভাবে তদন্তে গতি
দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত থমকে থাকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছিল বিরোধী শিবির। তবে অতি সম্প্রতি উস্তি থানার পুলিশ এই বহুপুরনো মামলায় নতুন করে ধরপাকড় শুরু করে।
১. প্রথমে গ্রেফতার করা হয় মগরাহাট-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৌসিফ আহমেদ মোল্লা (বাচ্চু), আরিফ হোসেন এবং আনিসুর রহমানকে।
২. তাঁদের টানা জেরা করে সঞ্জীব মণ্ডল ও রিপন নামে আরও দু’জনের নাম পাওয়া গেলে পুলিশ তাঁদেও পাকড়াও করে।
৩. পরবর্তীতে এই মামলায় নাম জড়ায় ফলতার পরিচিত নেতা জাহাঙ্গীর খানের।
৪. সবশেষে বুধবার গভীর রাতের অভিযানে উস্তি পুলিশের জালে ধরা পড়েন ইমরান হাসান।
পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, দেউলা থেকে গ্রেফতার ইমরানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে—সেদিন কাদের নির্দেশে এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল এবং এর পেছনে জেলা বা রাজ্য স্তরের আরও কোন কোন হেভিওয়েট বা প্রভাবশালী নাম জড়িত রয়েছে। পুরনো কেসে একের পর এক এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারিতে বর্তমানে তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট এলাকা জুড়ে।