“তপস্যা শেষ হয়নি!” পুলিশের হাতে ধরা পড়েও ছাড়েনি স্ত্রীর চুলের মুঠি! নৃশংস কাণ্ডে স্তম্ভিত গঙ্গারামপুর!

সকালের আলো ফুটতেই এক হাড়হিম করা ও রক্ত হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার নারায়ণপুর ঘোষপাড়া অঞ্চল। স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে পরম শান্তিতে নিজেদের বাড়ির মন্দিরে বসে রইলেন এক যুবক! বুধবার সকালে এই ভয়ংকর ও নৃশংস দৃশ্য চোখে পড়তেই গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম সীমা সরকার ঘোষ (৩৫)। স্ত্রীকে বর্বরোচিতভাবে খুন করে তাঁর খণ্ডিত মাথা নিয়ে নিজ গৃহের ঠাকুরঘরে বসে থাকার অপরাধে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের হাত ধরেও ছাড়েননি স্ত্রীর চুলের মুঠি!
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রিন্টুদের বাড়ির উঠোনে এসে দেখতে পান এক মর্মান্তিক দৃশ্য। সীমাকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ঘরের মন্দিরে বসে রয়েছেন স্বামী রিন্টু। ঘটনা চাউর হতেই থিকথিক ভিড় জমতে শুরু করে বাড়ির সামনে। খবর পেয়েই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং এসডিপিও।
কিন্তু পুলিশ দেখেও বিন্দুমাত্র বিকার বা ভীতি দেখা যায়নি রিন্টুর মধ্যে। পুলিশ কর্মীরা যখন তাঁকে গ্রেপ্তার করে টানতে টানতে ভ্যানে তোলার চেষ্টা করেন, তখনও তাঁর এক হাতে ছিল মৃত স্ত্রীর কাটা মাথা এবং শক্ত করে ধরা ছিল মাথার লম্বা চুলের মুঠি! সেই অবস্থাতেই তাঁকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। মস্তকবিহীন ধড়টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে প্রশাসন।
শান্ত নিরামিষাশী থেকে হঠাৎই তন্ত্রসাধক! নেপথ্যে কী রহস্য?
ঘটনার আকস্মিকতায় বাকরুদ্ধ মৃতার পরিবার ও প্রতিবেশীরা। মৃত গৃহবধূর কাকা রাজেশ প্রামাণিক জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি ভাগ্নির মৃত্যুর এই রোমহর্ষক খবর পান। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারপাশের পরিস্থিতি দেখে তিনি সম্পূর্ণ স্তম্ভিত হয়ে যান।
রাজেশবাবুর দাবি, অভিযুক্ত রিন্টু একসময় স্টেট ট্রান্সপোর্টের বাসে কন্ডাক্টরের কাজ করতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীকালে ব্যবসাও পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হয়ে পড়েন এবং ধর্মকর্মে মন দেন। শুধু তাই নয়, গত কিছুদিন ধরে তন্ত্রসাধনার প্রতিও তাঁর অদ্ভুত আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মৃতার কাকা। এই অঞ্চলে এর আগে কখনোই এমন বর্বরোচিত বা নৃশংস ঘটনার নজির নেই। অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
দাম্পত্য কলহের জেরে এই খুন, নাকি এর নেপথ্যে তন্ত্রসাধনা কিংবা অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। ধৃত ব্যক্তিকে দফায় দফায় জেরা করার পাশাপাশি তাঁর মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।