জওয়ানদের পেড়ে ফেলে বাঁশ-লাঠি দিয়ে নির্মম মার! ত্রিপুরার এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় ১০ গ্রেপ্তার!

ত্রিপুরায় আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মাঝেও ঘূণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি যে এমন এক বর্বরোচিত ও ভয়াবহ ঘটনা অপেক্ষা করে আছে। রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার অত্যন্ত সংবেদনশীল বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত অবস্থায় আকস্মিক হামলার মুখে পড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন বিএসএফের দুই জওয়ান এবং এক কোম্পানি কমান্ডার। স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আক্রান্ত ওই সেনা কর্মকর্তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে যাতে নতুন করে কোনো ধরনের উত্তেজনা, অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং জায়গায় জায়গায় বিশাল পুলিশ ও আধাসেনা বাহিনী রুট মার্চ শুরু করেছে।

সিপাহীজলা জেলা পুলিশের শীর্ষ মহল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি বেশ কয়েকজন ভারতীয় ও বাংলাদেশি দুর্ধর্ষ পাচারকারীকে অবৈধ কারবার ও চোরাচালান চালাতে দেখেন কর্তব্যরত জওয়ানেরা। মুহূর্তের মধ্যে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের টহলদারি দল সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাদের অবৈধ কার্যকলাপে বাধা দেয় এবং হাতেনাতে এক ভারতীয় পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। কিন্তু বিএসএফের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই আন্তর্জাতিক সীমানা এবং কাঁটাতারের অন্য পারে ওঁৎ পেতে থাকা বাংলাদেশি পাচারকারীরা সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঠিক এর পরেই আকস্মিকভাবে পরিস্থিতি মোড় নেয়। হঠাৎ করেই মহিলাসহ উগ্র একদল গ্রামবাসী বিএসএফের টহলদারি গাড়িটি চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে এবং জওয়ানদের উপর চড়াও হয়ে হিংসাত্মক আক্রমণ চালায়। উন্মত্ত জনতা লাঠি, বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জওয়ানদের বেধড়ক মারধর করে। মুহূর্তের মধ্যে রক্তার্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে খবর পেয়ে বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও রাজ্য পুলিশের বড় টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পর পুলিশ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইতিমধ্যে ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে সাত জন পুরুষ এবং তিন জন মহিলা বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার জেরে দায়ের করা মূল এফআইআরে (FIR) মোট ১৯ জনের সুনির্দিষ্ট নাম রয়েছে। বাকি পলাতক ৯ জন অভিযুক্তকে ধরার জন্য তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের হুশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানদের ওপর এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।

বুধবারও সীমান্ত সংলগ্ন পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিবেশ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএসএফ, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (TSR) এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে পায়ে হেঁটে এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও টহলদারি চালিয়েছে। অকারণে রাস্তাঘাটে জটলা বা ভিড় না করার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা আগেই কড়া বার্তা দিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ‘অপরাধীদের কাউকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের বীর জওয়ানদের ওপরে চালানো এই ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা রাজ্য সরকার কখনোই বরদাস্ত করবে না। এই অপরাধের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জ়িরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কঠোরভাবে এগোবে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *