ইডেনে বাংলার চরম ব্যাটিং বিপর্যয়! ঘরের মাঠে কি তবে হারের মুখে দাঁড়িয়ে অভিমন্যুরা?

চলতি রঞ্জি ট্রফি মরশুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বাংলা দল আচমকাই ঘরের মাঠে তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ল। ইডেন গার্ডেন্সে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। টানা প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা বাংলার সামনে এখন ম্যাচ জেতা তো দূরের কথা, ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে মান বাঁচানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতা ও শামির লড়াই

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলার ব্যাটাররা মহারাষ্ট্রের বোলিং আক্রমণের সামনে টিকতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ঘরের মাঠে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলা দল। এর জবাবে ব্যাট করতে নেমে মহারাষ্ট্র তাদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ২১৮ রান। প্রথম ইনিংসের সুবাদে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে যায় প্রতিপক্ষ দল।

বাংলার হয়ে বল হাতে একা কুম্ভ হয়ে লড়াই চালান জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি। মাত্র ৩৭ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৪টি মূল্যবান উইকেট। বুধবার ম্যাচের তৃতীয় দিনে আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে মাত্র ১১ রান যোগ করতে সক্ষম হয় মহারাষ্ট্র। তনয় সাঙ্ঘভি ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন এবং প্রদীপ দাধেকে (২৭) আউট করে মহারাষ্ট্রের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান সেই শামিই।

দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই পুরনো রোগ, ফের ব্যর্থ টপ অর্ডার

৭৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও ঘুরে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় বাংলা। সেই পুরনো রোগ—বাইরের বলে অপ্রয়োজনীয় শট খেলে উইকেট বিলিয়ে আসার প্রবণতা এ দিনও বজায় ছিল। একে একে সাজঘরে ফেরেন দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটাররা।

অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ মাত্র ৯ রান করে আউট হন। এছাড়া সুদীপ ঘরামী (১২) এবং সুদীপ চট্টোপাধ্যায় (শূন্য) চরম হতাশ করেন। চলতি রঞ্জি মরশুমে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের পারফরম্যান্স একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন ওপেনার অঙ্কুর পাল (৩২)। দলের এমন সঙ্কটজনক মুহূর্তে ফের একবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোড়েল। দিনের শেষে তিনি ৪০ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত রয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গেই ক্রিজে রয়েছেন সুরজ।

আবহাওয়ার চোখরাঙানি ও শেষ দিনের সমীকরণ

ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি ম্যাচের গতি ও উত্তেজনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া। বৃষ্টি এবং খারাপ আলোর কারণে প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন আম্পায়াররা। বুধবার তৃতীয় দিনে সব মিলিয়ে ৩০ ওভারের বেশি খেলা সম্ভব হয়নি। দুপুরের লাঞ্চের পর খেলা শুরু হলেও সামান্য কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের তা বন্ধ রাখতে হয়।

মহারাষ্ট্রের বোলারদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে এখন চতুর্থ তথা শেষ দিনে পরাজয় এড়ানোই কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের প্রধান লক্ষ্য। ক্রিজে থাকা অভিষেক পোড়েল ও সুরজের জুটির ওপর ভরসা করে সমর্থকরা চাইছেন, শেষ দিনে বাংলার ব্যাটাররা ধৈর্যশীল ও দায়িত্বপূর্ণ ক্রিকেট খেলে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে নিয়ে গিয়ে অন্তত ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করুন।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *