শীতকালেও কুলিং বাড়িয়ে রাখছেন? ফ্রিজের এই একটি ভুলেই প্রতি মাসে পকেটে টান!

কার্তিক কাটতেই বাংলা জুড়ে শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পোশাক, খাওয়া-দাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নানান পরিবর্তন আসে। ঠিক তেমনই ঘরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে সারাদিন চালু থাকা ফ্রিজের ব্যবহারে আনতেও কিছু বিশেষ পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। গরমের দিনে ফ্রিজের ভেতরের খাবার যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, তার জন্য ঠান্ডা কিংবা কুলিংয়ের মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তরে রাখতে হয়। কিন্তু শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক কত রাখা উচিত, তা নিয়ে অধিকাংশ মানুষের মনেই সঠিক ধারণা নেই। ভুল তাপমাত্রা সেটিংয়ের কারণে মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিলের অহেতুক আকাশছোঁয়া মাশুল গুনতে হয় সাধারণ মানুষকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শীতের মরসুমে ফ্রিজের টেম্পারেচার বা রেগুলেটার ঠিক কত নম্বরে রাখলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ফ্রিজও থাকবে একদম নিরাপদ।

শীতকালে আমাদের আশেপাশের পরিবেশের তাপমাত্রা এমনিতেই অনেকটাই নেমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ফ্রিজের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ গরমের মতো অতটা উত্তপ্ত হয় না। এই পরিস্থিতিতে শীতের দিনে ফ্রিজকে গরমের সময়ের মতো সর্বোচ্চ কুলিং বা হাই সেটিংয়ে চালিয়ে রাখা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ফ্রিজের তাপমাত্রা সর্বদা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (বা ৩৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট)-এর মধ্যে বজায় রাখা উচিত। যাদের ফ্রিজে তাপমাত্রা নির্দিষ্ট করার জন্য ডায়াল বা ১ থেকে ৭ পর্যন্ত নম্বরযুক্ত রেগুলেটার রয়েছে, তারা শীতের সময় সেটিকে ১ অথবা ২ নম্বরে সেট করে রাখুন। গরমের দিনে যেখানে এই রেগুলেটার ৫ বা ৬ নম্বরে রাখা আবশ্যক হয়, সেখানে শীতের দিনে তা কমিয়ে ১ বা ২-এ নিয়ে এলে ফ্রিজের কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ অনেক কমে যায়।

অনেকে মনে করেন, শীতকালে বাইরে ঠাণ্ডা থাকায় ফ্রিজ বন্ধ করে রাখলে হয়তো বিজলি বিল অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ক্ষতিকর। শীতে দীর্ঘদিন ফ্রিজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখলে ভেতরে আর্দ্রতা জমে ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে এবং কম্প্রেসারের ক্ষতি হতে পারে। বরং ফ্রিজের রেগুলেটার কম নম্বরে সেট রাখলে কম্প্রেসার কম সময় চলবে। কারণ ফ্রিজ ভেতরের পরিবেশকে নির্দিষ্ট ঠাণ্ডা মাত্রায় পৌঁছে দেওয়ার পর কম্প্রেসারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় বা অটো-কাট অফ নেয়। কুলিং সেটিং কম থাকলে কম্প্রেসার খুব দ্রুত কাঙ্ক্ষিত ঠাণ্ডা পেয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, যা আপনার বিদ্যুৎ বিল একধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

শীতকালে ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ আরও কমাতে কয়েকটি সাধারণ টিপস মেনে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রথমত, ঘরের দেয়াল বা অন্যান্য আসবাবপত্র থেকে ফ্রিজটিকে অন্তত ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি দূরে সরিয়ে রাখুন, যাতে পেছনের কয়েল থেকে নির্গত তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ফ্রিজের দরজা বারবার বা অহেতুক খুলে রাখবেন না; এতে ভেতরের ঠাণ্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যায় এবং কম্প্রেসারকে পুনরায় অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। তৃতীয়ত, গরম কোনো খাবার বা দুধ সরাসরি ফ্রিজের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখবেন না। খাবার স্বাভাবিক ঘরের তাপমাত্রায় বা ঠান্ডা হলে তবেই ফ্রিজে রাখুন। এ ছাড়া ফ্রিজের রবারের দরজার সিলিং ঠিকমতো আটকানো আছে কি না, তা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। শীতের দিনগুলোতে এই সামান্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই খাবার থাকবে একদম সতেজ এবং আপনার বিদ্যুৎ বিলেও আসবে বিশাল সাশ্রয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *