“কপালে লাগানো ওটা কী?” নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গিলের অদ্ভুত যন্ত্র দেখে কৌতূহলী ফ্যানরা, জানুন এর অবিশ্বাস্য ক্ষমতা!

ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে আয়োজিত প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI) ম্যাচে মাঠে নেমেই আচমকা ক্রীড়াপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল। তবে এবার কোনো দুর্দান্ত শট বা সেঞ্চুরির জন্য নয়, বরং গিলের কপালের এক পাশে লাগানো একটি ছোট অদ্ভুত কালো রঙের ডিভাইস ঘিরেই তৈরি হলো তীব্র কৌতূহল। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ম্যাচ চলাকালীন গিলের কপালে থাকা এই রহস্যময় যন্ত্রটি চোখে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয় ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে কমেন্ট্রি বক্সে থাকা ধারাভাষ্যকারদের মধ্যেও।
বায়োমেট্রিক সেন্সর নাকি অন্য কিছু? কী এই ‘টেম্পল’ ডিভাইস?
ম্যাচ চলাকালীন প্রথমে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো নতুন কোনো বায়োমেট্রিক সেন্সর বা ট্র্যাকার। কিন্তু অনুসন্ধানের পর জানা যায়, এই বিশেষ গ্যাজেটটির নাম ‘টেম্পল’ (Temple)। এটি একটি অত্যন্ত হাইটেক ও অত্যাধুনিক পারফরম্যান্স ওয়্যারেবল সেন্সর, যা মূলত বিশ্বমানের পেশাদার অ্যাথলিটদের শারীরিক এবং মানসিক সক্ষমতা প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ বা ট্র্যাক করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
আজকাল বাজারে থাকা সাধারণ স্মার্টওয়াচগুলি মূলত হৃদস্পন্দন (Heart Rate) বা হেঁটে চলা শারীরিক কার্যকলাপের হিসাব রাখে। কিন্তু ‘টেম্পল’ ডিভাইসের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ আলাদা ও অবিশ্বাস্য। এটি সরাসরি খেলোয়াড়ের মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ এবং অক্সিজেনের মাত্রার সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। কপালের পাশের সংবেদনশীল অংশে লাগানো অপটিক্যাল সেন্সরের সাহায্যে এই সমস্ত জটিল ডেটা সংগ্রহ করা হয়। এর মাধ্যমে একজন অ্যাথলিটের মানসিক চাপ (Mental Stress), মনোযোগের মাত্রা এবং ভেতরের মানসিক ক্লান্তি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়।
ক্রিকেটে কেন এত জরুরি এই প্রযুক্তি?
ক্রিকেট মাঠে একজন ব্যাটারকে প্রতি সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বোলারের হাত থেকে বল রিলিজ হওয়ার পর তার গতি, সুইং ও বাউন্স বুঝে দ্রুত শট নির্বাচন করতে দরকার হয় তীক্ষ্ণ মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতা। ম্যাচ চলাকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্লেয়ারের মস্তিষ্ক কতটা চাপের মুখে কাজ করছে, তা এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধরা পড়ে।
শুভমন গিলের মতো বিশ্বমানের ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে তাই কেবল শারীরিক ফিটনেসই শেষ কথা নয়; ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে মানসিক ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘টেম্পল’ ডিভাইসের প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ট্রেনার ও কোচেরা অনুশীলনের সময় প্লেয়ারের মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রস্তুতিকে নতুন রূপ দিতে পারেন। আধুনিক ক্রিকেটে স্পোর্টস সাইন্স ও প্রযুক্তির ব্যবহার যে কত দ্রুত নতুন মাত্রা পাচ্ছে, শুভমন গিলের কপালে দেখা যাওয়া এই ছোট্ট ডিভাইসটি তারই এক অনন্য নিদর্শন।