চোরবাগানের সেই ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন! কালীপুজোয় মণ্ডপগুলির জন্য এলো নজিরবিহীন কড়া SO

চোরবাগানের সেই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার স্মৃতি আজও সাধারণ মানুষের মনে টাটকা। মণ্ডপের ভেতর অতিরিক্ত ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন নিরীহ দর্শনার্থী। সেই ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে কোনোভাবেই না ঘটে এবং আসন্ন কালীপুজোয় সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়, তার জন্য এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য প্রশাসন।

রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর এবং কলকাতা পুলিশের তরফে যৌথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে একটি বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) বা নির্দেশিকা। উৎসবের মরসুমে নিরাপত্তা বজায় রাখতে শহরের প্রতিটি পুজো কমিটির জন্য এই নিয়মাবলী মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রশাসনের জারি করা কড়া নিয়মাবলী:

  • পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ: মণ্ডপে প্রবেশ (Entry) এবং প্রস্থানের (Exit) পথ সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে দূর থেকে চোখে পড়ার মতো বড় নির্দেশক বোর্ড বা সংকেতের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। ভিড় জমে গেলে ধাপে ধাপে সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের ভেতরে ঢোকানো ও বের করার ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে অবিলম্বে মণ্ডপে নতুন দর্শনার্থী প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

  • পর্যাপ্ত আলো ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় রোধ: চোরবাগানের ঘটনায় পর্যাপ্ত আলোর অভাব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছিল। তাই এবার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মণ্ডপ বা তার আশপাশের এলাকা কোনোভাবেই অন্ধকার রাখা যাবে না। আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয় সামাল দেওয়ার জন্য অল্টারনেটিভ ব্যাকআপ বা বিকল্প আলোর ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।

  • বাধাহীন আপৎকালীন পথ (Emergency Exit): কোনো জরুরি বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত দর্শনার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইমার্জেন্সি গেট সবসময় সম্পূর্ণ বাধামুক্ত রাখতে হবে। সেখানে কোনো চাবি বা তালা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না।

  • সঠিক মাইকিং ও ‘ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর’: ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনো গুজব বা আতঙ্কের সৃষ্টি না হয়, তার জন্য মাইকে অত্যন্ত শান্ত, স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ভাষায় ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে প্রতিটি পুজো কমিটিকে একজন করে দক্ষ ‘ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর’ নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নজরদারিতে পুলিশ, সিসিটিভি ও ড্রোন: মণ্ডপ চত্বরে সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মোতায়েন থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ। পাশাপাশি, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিটি পুজো মণ্ডপের ওপর কড়া নজরদারি চালাবে কলকাতা পুলিশ।

আইনি পদক্ষেপ ও সমন্বয় বৈঠক: উল্লেখ্য, চোরবাগান মণ্ডপে সেই ‘প্রাণঘাতী’ ঘোষণার দায় স্বীকার ও তদন্তের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

প্রশাসনের এই নতুন গাইডলাইন পুরোপুরি মেনে চলেই পুজো পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা। নির্দেশিকাগুলি কীভাবে গ্রাউন্ড লেভেলে বাস্তবায়িত করা হবে এবং সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে খুব শীঘ্রই কলকাতা পুলিশের তরফে সমস্ত পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *