মাত্র ৩০ হাজার টাকার বকেয়া টাকার বিবাদ! গভীর রাতে খামারে রাখা গাড়িতে আগুন, মধ্যপ্রদেশের কিশোরসহ ২ জনের নির্মম মৃত্যু

আর্থিক বিবাদের জেরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল গুজরাটের আমরেলি জেলা। খামারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় দুই পরিযায়ী কৃষি শ্রমিককে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, একটি গাড়ি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম বকেয়া টাকা সংক্রান্ত অশান্তির জেরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ দু’জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কাজের সন্ধানে গিয়ে নৃশংস পরিণতি: সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সোমবার রাতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে গুজরাটের আমরেলি জেলার লিলিয়া তালুকের অন্তর্গত গুন্দারান গ্রামের উপকণ্ঠে। পুলিশ সূত্রের খবর, নিহত দুই কৃষি শ্রমিকের নাম রবি বাঘেল (১৬) এবং নীতিন পাচায়া (২১)। তাঁদের দু’জনেরই মূল বাড়ি মধ্যপ্রদেশে। জীবিকার সন্ধানে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে গুজরাটে কাজ করতে এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেখানে যে তাঁদের জন্য এমন ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে, তা স্বপ্নেও ভাবেনি পরিবার। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নিহতের বাবা ও কাকা কমলেশ বাঘেল পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গভীর রাতে কীভাবে ঘটল এই তাণ্ডব? মঙ্গলবার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) বিস্ময় মানসেতা এই নৃশংস কাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান, ঘটনার দিন রাতে কাজ শেষে ওই দুই যুবক একটি খামারে পার্ক করা পিকআপ ভ্যানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সেই সুযোগে গভীর রাতে অভিযুক্তরা গাড়িটিতে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিনোদ দোদিয়া এবং তাঁর আত্মীয় রাজু দোদিয়া মোটরসাইকেলে করে কিছুটা দূরে অবস্থিত একটি পেট্রোল পাম্পে যায়। সেখান থেকে নিজেদের বাইকে পেট্রোল ভরে আসার পর বাইকের ফুয়েল ট্যাঙ্ক থেকে ছোট পাত্রে পেট্রোল বের করে নিয়ে গাড়িটির ভেতরের ও বাইরের অংশে ছড়িয়ে দেয় এবং দেশলাই জ্বালিয়ে আগুন লাগিয়ে চম্পট দেয়।
৩০ হাজার টাকার বিবাদ ও খুনের মাস্টারপ্ল্যান: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চুরান্ত চমকপ্রদ তথ্য। অভিযুক্ত বিনোদ দোদিয়া কিছুদিন আগে রিতেশ সিংহ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিস্তিতে একটি গাড়ি কিনেছিল। বেশ কিছু টাকা পরিশোধ করা হলেও বিনোদের কাছে প্রায় ৩০,০০০ টাকা বকেয়া থেকে যায়। টাকা না পাওয়ায় রিতেশ সিংহ গাড়িটির দখল বিনোদের থেকে নিয়ে নিহতদের স্বজন কমলেশ বাঘেলের হাতে তুলে দেন।
পরবর্তীতে বিনোদ যখন নিজের গাড়িটি ফেরতের দাবি জানায় অথবা তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত চায়, তখন রিতেশ সিংহ উভয় প্রস্তাবই খারিজ করে দেন। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বিনোদ ও তার আত্মীয় রাজু মিলে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করে।
পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “বকেয়া টাকা এবং গাড়ির হাতবদল নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েই অভিযুক্তরা প্রতিশোধ নিতে গাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তারা ভেতরে মানুষ ঘুমাচ্ছিল কি না তা জেনেও উপেক্ষা করেছিল, নাকি স্রেফ গাড়ি পোড়াতে গিয়েই এই দুই শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নিল, তা পুরো তদন্ত শেষেই স্পষ্ট হবে।” গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।