“হাতজোড় করছি, ভয় পাবেন না!” হাতে গোলাপ নিয়ে মোদীকে খোলা চ্যালেঞ্জ রাহুলের, বিচারক করা হোক মোহন ভাগবতকে!

দীপাবলির আবহে দেশের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তাপ! বিদেশি শক্তির যোগসাজশ এবং দেশদ্রোহিতার মতো গুরুতর অভিযোগ ঘিরে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা মঞ্চে লাইভ বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। স্রেফ মুখের কথা নয়, হাতে একটি তাজা গোলাপ ফুল নিয়ে অত্যন্ত নাটকীয় ভঙ্গিতে প্রধানমন্ত্রীকে এই দ্বিমুখী মুখোমুখি বিতর্কের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের বিরুদ্ধে মোদীর আনা সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতকে মধ্যস্থতাকারী বা বিচারক হিসেবে বসানোর চমকপ্রদ দাবিও জানিয়েছেন রাহুল।
“ভয় পাবেন না, স্থান-কাল আপনিই ঠিক করুন!” এ দিন হাতে গোলাপ ফুল নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী সোজাসুজি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “আপনি দেশের বিরোধীদের দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। আমার স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ, স্থান এবং সময় আপনি বেছে নিন। যেকোনো স্টেজে যেকোনো জায়গায় আসুন, মুখোমুখি বিতর্ক হোক। প্রকাশ্যে আলোচনা হবে—কে আসল দেশদ্রোহী? কার সঙ্গে বিদেশি শক্তির গোপন আঁতাত রয়েছে এবং সেই যোগাযোগের প্রকৃতি ঠিক কী? কোনো ভয় পাবেন না মোদীজি, চলে আসুন! একদিকে আপনি থাকবেন, অন্যদিকে আমি। মিডিয়া থাকবে, দেশের যুবসমাজ থাকবে।”
এমনকি বিতর্কের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কট্টর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ছাড় দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “যাকে খুশি আপনি বিচারকের আসনে বসাতে পারেন। কোনো আপত্তি নেই, আপনি চাইলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতজিকেও বিচারক করে বসিয়ে দিতে পারেন।”
আদানি থেকে ফরেন ফান্ডিং—খোলামেলা আলোচনার দাবি: এই প্রস্তাবিত লাইভ ডিবেটে কোন কোন ইস্যু উঠবে, তার একটি দীর্ঘ তালিকাও পেশ করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা। তাঁর দাবি, এই বিতর্কে দেশের ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেম, মোদী সরকারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি কেন এবং কীভাবে কোনো ক্যাবিনেট অনুমোদন ছাড়া দ্রুত করা হলো, আদানির বিরুদ্ধে চলা তদন্ত বা মামলা কেন বন্ধ করা হলো—সেই সমস্ত গোপন বিষয় প্রকাশ করা হবে।
তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক আইনি মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল কটাক্ষের সুরে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ৪৫টি মানহানির মামলা ঝুলছে। কিন্তু বিদেশি যোগযোগ নিয়ে কোনো মামলা করছেন না কেন? মামলা দিন, সেখানেও এই নিয়ে কথা বলব। এসো মোদীজি, খোলামেলা সব হিসাব হয়ে যাক। শুভ দীপাবলী!”
সংসদে ‘ঘুমন্ত রাহুল’, সল্টলেকে রহস্যময় পোস্টার নিয়ে বিতর্ক: অন্যদিকে, দিল্লিতে রাহুলের এই হাঁকডাকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে তাঁকে ঘিরে অন্য বিতর্ক ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। কলকাতার সল্টলেকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে—করুণাময়ী থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সংযোগস্থলে সংসদের ভেতরে রাহুল গান্ধীর একটি ঘুমন্ত ছবি সংবলিত বিতর্কিত পোস্টার রাতারাতি ঘিরে ফেলেছে রাস্তাঘাট।
পোস্টারে লেখা রয়েছে, “দেশের নেতা কি এমনই হওয়া উচিত?”। সেখানে সংসদের ভেতরের সেই ঘুমন্ত ছবি দিয়ে রাহুলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে কে বা কোন সংগঠন রাতের অন্ধকারে এই পোস্টারগুলি লাগাল, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ঘোর ধোঁয়াশা। জাতীয় রাজনীতির লাইভ ডিবেটের লড়াই এবং রাজ্যের রাজপথে ঘুমন্ত পোস্টার বিতর্ক—উভয় মিলে এই দীপাবলিতে বঙ্গ তথা ভারতের রাজনৈতিক পারদ চরম তুঙ্গে পৌঁছেছে।