“ভারতে বাংলাদেশের মতো অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে বিরোধীরা!” শিলিগুড়ির মেগা মিছিল থেকে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

অরাজকতা দূর করা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে উত্তরের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু শিলিগুড়ির রাজপথে অনুষ্ঠিত হলো গেরুয়া শিবিরের এক সুবিশাল মেগা মহামিছিল। মিছিলে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতির সঙ্গে পা মেলান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারসহ দলের শীর্ষ সাংসদ, বিধায়ক ও নেত্রীবৃন্দ। মিছিল শেষে আয়োজিত বিশাল জনসভা থেকে বিরোধীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে রাজপথ কাঁপালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
“দিল্লিতে জোট বাঁধা নেতারা সব সর্বহারা!” দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী দলগুলির সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কড়া ভাষায় নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এরা সব সর্বহারা! হেরে যাওয়া নেতারা এক জায়গায় গিয়ে দিল্লিতে ভিড় জমিয়েছে। এরা চায় ভারতের বুকে বাংলাদেশের মতো অরাজকতা ও অস্থিরতা তৈরি করতে। দেশে জামাতি, মৌলবাদী, দিমাগি নকশাল, মাওবাদী, জঙ্গি আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগানকারীদের আনাই এদের মূল উদ্দেশ্য। উৎখাত হয়ে যাওয়া পিসি-ভাইপো থেকে শুরু করে দেউলিয়া কমিউনিস্টরা এখন দিল্লিতে গিয়ে দেশকে টুকরো করার ষড়যুদ্ধে নেমেছে।”
বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ক্ষমতায় থাকতে গেলে গণতান্ত্রিকভাবে ভোটে লড়ে আসতে হয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীজি যতদিন দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন, ততদিন তোমরা কোনো দিন কোনো ভোটে জিততে পারবে না!”
“২G, ৩G, ৪G দুর্নীতির আখড়া!” বংশানুক্রমিক রাজনীতি ও দুর্নীতি নিয়ে বিরোধী দলগুলিকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এরা সবাই ৪G, ৩G এবং ২G পার্টি। ৪G হলো নেহেরু, ইন্দিরা, রাজীব ও রাহুল। ৩G হলো শেখ আবদুল্লাহ, ফারুক ও ওমর এবং করুণানিধি, স্ট্যালিন ও উদয়নিধি। আর ২G তো চারিদিকে ছড়াছড়ি—পিসি-ভাইপো, মুলায়ম-অখিলেশ, লালু-তেজস্বী! কিন্তু মোদীজির পিছে-সামনে কোনো পরিবার নেই, তাঁর আগে ও পেছনে শুধুই এই দেশ!”
করোনা, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মোদীজির বিশ্বনেতা হয়ে ওঠা: দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “২০১৪ সালে ভারত বিশ্বের ১২তম অর্থনীতির দেশ ছিল, যা আজ ৩ নম্বর স্থানে উঠে আসার দোরগোড়ায়। করোনা আবহে দেশকে ১১ মাসের মধ্যে ৩-৩টি টিকা উপহার দিয়েছেন মোদীজি, ৫০টিরও বেশি দেশে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তাঁর এক ফোনেই মোদীজির ভারতীয় বাচ্চাদের ফেরাতে ২৪ ঘণ্টা যুদ্ধ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। দিস ইজ নরেন্দ্র মোদী!”
উত্তরবঙ্গের জন্য মেগা উপহার ও ১ লক্ষ চাকরির ডবল ধামাকা: আসন্ন পুরভোট ও উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন:
-
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: রায়গঞ্জে এইমস (AIIMS), জলপাইগুড়িতে ক্যানসার হাসপাতাল এবং বালুরঘাট, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। শিলিগুড়িতে আইআইটি বা আইআইএম-এর মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ার জমি দেখা হচ্ছে।
-
পরিকাঠামো ও চা-বাগান: হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়া বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। স্যামসিং-সহ বন্ধ হয়ে থাকা ২১টি চা-বাগান দ্রুত খুলে দেওয়া হবে।
-
মেগা চাকরি ও আইনশৃঙ্খলা: আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে রাজ্য জুড়ে ১ লক্ষ যুবক-যুবতীকে স্বচ্ছ উপায়ে চাকরি দেবে সরকার। পাশাপাশি মাটিগাড়া কাণ্ডসহ বিগত আমলের সমস্ত ধর্ষণ ও অপরাধের যুক্ত আসামীদের স্পেশাল পিপি দিয়ে দ্রুত কঠোর সাজা নিশ্চিত করা হবে।
একইসঙ্গে সনাতনী ঐতিহ্য রক্ষার আশ্বাস দিয়ে তিনি জোর গলায় জানান, এই মাটিতে পুজো-পার্বণ বা দেওয়ালি-ছট পালন করতে আর কাউকে হাইকোর্টের দরজায় ধাক্কা খেতে হবে না। শিলিগুড়ির এই মেগা সমাবেশ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক ও উন্নয়নমুখী বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।