“উত্তরবঙ্গের সেরা সিক্রেট রেসিপি!” বাড়িতেই বানান মালদার বিখ্যাত কলাই রুটি

বাংলার প্রতিটি জেলার আবহাওয়া ও সংস্কৃতির পাশাপাশি বদলে যায় সেখানকার খাবারদাবারের ধরনও। আর নির্দিষ্ট অঞ্চলে গিয়ে সেখানকার বিখ্যাত লোকাল ফুড বা ঐতিহ্যবাহী পদ চেখে না দেখলে ভ্রমণটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়! তেমনই উত্তরবঙ্গের—বিশেষ করে মালদহ জেলার—অত্যন্ত জনপ্রিয় ও স্বাস্থ্যকর এক ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো ‘কলাই রুটি’ বা কলাই ডালের রুটি।
মাষকলাইয়ের ডালের আটা ও চালের গুঁড়োর মিশ্রণে তৈরি এই রুটি মালদার রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্ট্রিট ফুড হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত। খাঁটি উত্তরবঙ্গীয় কায়দায় এই রুটি পরিবেশন করা হয় জিভে জল আনা তেঁতুল, সরষে বাটা ও কাঁচা লঙ্কার টক-ঝাল চাটনি, বেগুন ভর্তা কিংবা কষা মাংসের সাথে। পেট ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। মালদা না গিয়েও কীভাবে নিজের রান্নাঘরে খুব সহজে এই ঐতিহ্যবাহী রুটি বানিয়ে ফেলবেন? রইল তার সহজ রেসিপি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
-
মাষকলাইয়ের ডালের আটা (বা মিহি গুঁড়ো)
-
চালের গুঁড়ো
-
স্বাদমতো নুন
-
পরিমাণমতো জল
-
রুটি সেঁকার জন্য মাটির তাওয়া বা চাটু (ঐতিহ্যবাহী স্বাদের জন্য)
তৈরির সহজ পদ্ধতি:
১. কাই বা ডো তৈরি: প্রথমে একটি পাত্রে মাষকলাইয়ের আটা, চালের গুঁড়ো এবং সামান্য নুন একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার অল্প অল্প করে জল যোগ করে মসৃণ ও নরম একটি ডো (Do) মেখে নিন। মাখা হয়ে গেলে একটি ভেজা সুতির কাপড় দিয়ে ডোটি ঢেকে মিনিট ১৫-২০ রেখে দিন।
২. লেচি ও রুটির আকার দেওয়া: হাতে সামান্য জল বা তেল মেখে নিন। এবার ডো থেকে বড় মাপের লেচি কেটে হাতের তালুর সাহায্যে চেপে চেপে গোল ও কিছুটা পুরু আকৃতির রুটি গড়ে নিন। মনে রাখবেন, সাধারণ আটার রুটির তুলনায় কলাইয়ের রুটি আকারে কিছুটা বড় ও মোটা হয়।
৩. সেঁকে নেওয়ার কায়দা: মাটির তাওয়া বা কড়াই খুব ভালো করে গরম করে নিন। এবার গড়ে রাখা রুটিটি তাওয়ায় দিয়ে মাঝারি আঁচে এপিঠ-ওপিঠ ঘুরিয়ে ভালোমতো সেঁকে নিন। রুটির গায়ে আলতো বাদামী বা হালকা পোড়া দাগ এলে বুঝতে হবে রুটি একদম তৈরি।
ব্যস! সহজেই তৈরি হয়ে গেল ধোঁয়া ওঠা গরম গরম ঐতিহ্যবাহী কলাইয়ের রুটি। ধনেপাতা-তেঁতুলের ঝাল চাটনি, বেগুন পোড়া ভর্তা কিংবা রবিবারের গরম গরম কষা খাসির মাংসের সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন এই অসাধারণ পদ।