“থানার ভেতরেই মহিলাকে ধর্ষণ!” পুলিশ কনস্টেবলের কুকীর্তিতে কাঁপছে ঝাড়খণ্ড, সাসপেন্ড ওসিসহ ৫

যেখানে সাধারণ মানুষ আইনি সহায়তার জন্য সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন, সেই থানাই যদি অপরাধের আখড়া হয়ে ওঠে, তবে সুরক্ষার চাদর কোথায় খুঁজবে সাধারণ মানুষ? ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খারসওয়ান জেলার গমহরিয়া থানায় এক গৃহবধূকে খোদ থানার ভেতরেই ধর্ষণের মতো নৃশংস অভিযোগ উঠল এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গাফিলতির অভিযোগে গমহরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC)-সহ মোট পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বামীর সঙ্গে গুরুতর ঝগড়া হয় ওই গৃহবধূর। স্বামী তাঁকে মারধর করতে পারেন—এমন আশঙ্কা করে তিনি ঘর ছেড়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় সরাসরি পুলিশের জরুরি হেল্পলাইনে ফোন করেন ওই মহিলা। এরপর পুলিশের একটি পেট্রোলিং ভ্যান গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে গমহরিয়া থানায় নিয়ে আসে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, থানায় পৌঁছানোর পর ওই গৃহবধূকে বিশ্রামের জন্য থানার ভেতরেই একটি আলাদা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন খোদ থানার ওসি। অভিযোগ, সেই সুযোগেই গমহরিয়া থানার ওয়্যারলেস অপারেটর ওই ঘরে প্রবেশ করে মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সাহসে ভর করে নিগৃহীতা মহিলা ওই থানাতেই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপ

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন সরাইকেলা-খারসওয়ানের পুলিশ সুপার (SP) মনোজ স্বর্গিয়ারি। পুরো ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তভার অর্পণ করা হয় সরাইকেলার এসডিপিও (SDPO) অনুভব ভরদ্বাজের ওপর।

এসডিপিওর জমা দেওয়া প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই ত্বরিত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পাশাপাশি, প্রশাসনিক দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগে গমহরিয়া থানার ওসি-সহ মোট পাঁচ জন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের সকলকে জেলা পুলিশ লাইনে ‘ক্লোজ়’ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে নিগৃহীতা ও অভিযুক্ত কনস্টেবলের পরিধেয় পোশাক বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য রাঁচির রাজ্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (FSL) পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিবাদের ঝড়

থানার অন্দরে খোদ পুলিশের এমন নারকীয় আচরণে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ঝাড়খণ্ড রাজ্য বিজেপির সভাপতি আদিত্য সাহু রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং অপরাধীরা এতটাই বেপরোয়া যে পুলিশ প্রশাসনেরও আর কোনো ভয় নেই। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে পুলিশই এখন রক্ষক থেকে ভক্ষক হয়ে উঠেছে বলে তোপ দেগেছেন তিনি।

যদিও এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে ঝাড়খণ্ড পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার প্রতিটি দিক অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *