স্কুটি নিয়ে এ কী চুরির ধান্দা? MBA ছাত্রের কাণ্ড দেখলে চোখ কপালে উঠবে, গ্রেপ্তার যুবক

উচ্চশিক্ষার জন্য এমবিএ (MBA) নিয়ে পড়াশোনা করছেন বটে, তবে তাঁর আসল শখ ছিল অত্যন্ত দামি ও বিলাসবহুল গাড়ির অতিরিক্ত চাকা (Stepney) চুরি করা! সুযোগ পেলেই স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়া এবং সুযোগ বুঝে রাস্তায় পার্ক করা নামী কোম্পানির গাড়ি থেকে স্টেপনি খুলে চম্পট দেওয়া—এই অভিনব কায়দায় চুরির অভিযোগে হায়দরাবাদ থেকে সোবান আলি খান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে ১৫টি বহুমূল্য গাড়ির টায়ার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ অক্টোবর হায়দরাবাদের গুডিমালকাপুর থানা এলাকায় ‘গ্যালাক্সি এনক্লেভ’ নামের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে একটি দামি মহিন্দ্রা থর (Mahindra Thar) গাড়ি পার্ক করা ছিল। দুপুরের দিকে গাড়ির মালিক বাইরে এসে দেখেন, তাঁর পিছনের অতিরিক্ত টায়ারটি বা স্টেপনিটি উধাও। সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুডিমালকাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে পুলিশ এবং আশপাশের এলাকার একাধিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে যে দৃশ্য ধরা পড়েছে, তা দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সোবান আলি খান নামের ওই যুবক স্কুটিতে বসে নিশ্চিন্তে মোবাইল ফোন ঘাঁটছেন। ঠিক তাঁর পাশেই পার্ক করা রয়েছে একটি কালো রঙের মহিন্দ্রা থর। একটু এদিক-ওদিক তাকিয়ে সোবান সুকৌশলে থরের পেছনে লাগানো অতিরিক্ত চাকাটি খোলার চেষ্টা শুরু করেন।

ঠিক সেই মুহূর্তেই পাশ দিয়ে অন্য একটি স্কুটার চলে যাওয়ায় তিনি ভান করে ফের নিজের স্কুটারে বসে মোবাইল ঘাঁটতে শুরু করেন। রাস্তা পরিষ্কার হতেই ফের থরের কাছে গিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অতি দক্ষ হাতে চাকাটি খুলে ফেলেন এবং তা নিজের স্কুটির সামনে চাপিয়ে চোখের পলকে চম্পট দেন।

মেকানিকের দোকান থেকে যন্ত্রপাতি নেওয়ার অভিনব কৌশল

তদন্তকারীদের দাবি, এই যুবকের মূল টার্গেটই থাকত বিলাসবহুল ‘থর’ বা এই গোত্রের এসইউভি গাড়িগুলি। গাড়ি থেকে চাকা খোলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জোগাড় করার পদ্ধতিও ছিল বেশ চতুর। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোবান স্থানীয় মেকানিকের দোকানে গিয়ে গাড়ি সারানোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ধার চাইতেন এবং বিশ্বাসের জন্য দোকানদারের কাছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জামানত বা ডিপোজিটও রাখতেন। সেই মেকানিকদের টুলস বা স্প্যানার দিয়েই তিনি গাড়ির নাট-বুল্ট খুলে টায়ার চুরি করতেন এবং কাজ শেষে সেই যন্ত্রপাতি ফের দোকানে ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে নিতেন!

পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত যুবকের বাবা পেশায় একটি হুইল অ্যালাইনমেন্টের দোকানে কাজ করেন। বাবার সুবাদেই গাড়ির চাকা এবং তার মেকানিকস নিয়ে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছিল সোবানের। পুলিশের কঠোর জেরার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত মোট ১১টি গাড়ি থেকে চায়ার চুরির কথা স্বীকার করেছেন ওই এমবিএ ছাত্র। পরে ধৃতের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫টি অতিরিক্ত টায়ার বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মহিন্দ্রা থরের পাশাপাশি দুটি ফোর্ড এন্ডেভার এবং একটি ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ির দামি চাকাও। বিলাসবহুল জীবনের শখ মেটাতেই এই পথ বেছে নিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *