১৫ ভরি সোনা হাতাতেই ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে খুন! ছাদেই পোড়ানো হলো লাশ, ছাই মিলল নদীতে; রাজস্থানে শিউরে ওঠার মতো কাণ্ড

মাত্র ১৫ ভরি সোনার গয়নার লোভে ৭০ বছরের এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে খুন করার মারাত্মক অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। কেবল খুন করেই ক্ষান্ত থাকেনি অভিযুক্ত, অপরাধ ঢাকতে বাড়ির ছাদে বৃদ্ধার দেহ পুড়িয়ে ছাই ও হাড় কোঠারি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। রাজস্থানের ভিলওয়াড়া জেলার এই হাড়হিম ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশীসহ মোট দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে মিলল সূত্র, জেসিবি দিয়ে নদী থেকে উদ্ধার হাড়
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ অক্টোবর ভিলওয়াড়ার বীর সাভারকর নগর এলাকার বাসিন্দা কমলা দেবী কঙ্কারিয়া (৭০) নিখোঁজ হন। তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। টানা কয়েকদিন সাড়াশব্দ না পেয়ে ১৫ অক্টোবর তাঁর পুত্রবধূ স্থানীয় ভীমগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তাতেই দেখা যায়, ১২ অক্টোবর শেষবার প্রতিবেশী রবি তাপাদিয়ার (৪৩) সঙ্গে ওই বৃদ্ধাকে দেখা গিয়েছিল। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ রবিকে আটক করে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসল সত্য।
ভীমগঞ্জ থানার এসএইচও সুনীল চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত রবি তাপাদিয়া এবং তার সহযোগী হীরা সিন্ধি মিলে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তাঁর গায়ের ১৫ ভরি সোনার গয়না খুলে নিয়ে খুনের প্রমাণ লোপাট করতে ছাদেই দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরে ছাই ও হাড় কোঠারি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ একটি আর্থমুভার (জেসিবি) ব্যবহার করে নদী তল্লাশি চালায় এবং নদী সংলগ্ন পালদি কালভার্টের কাছ থেকে পুড়ে যাওয়া হাড়ের টুকরো উদ্ধার করে।
মার্চ মাসেও নাগৌরে ঘটেছিল অনুরূপ নৃশংসতা
প্রবীণ মহিলাদের গায়ে থাকা বহুমূল্যের সোনার গয়না হাতাতে এ ধরনের অপরাধ রাজস্থানে নতুন নয়। গত ১৬ মার্চ নাগৌরের পালড়ি কালান গ্রামে ৭৫ বছর বয়সি নাথি দেবী বাউরি নামের এক বৃদ্ধাকে একইভাবে খুন করা হয়েছিল। পোষ্যদের খাবার কিনতে বের হওয়া ওই বৃদ্ধার শরীরে ছিল প্রায় ৭ লক্ষ টাকার সোনা-রুপোর গয়না।
পরদিন ঝোপের মধ্যে একটি রক্তমাখা ব্যাগ থেকে তাঁর টুকরো টুকরো দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। খুনিরা বৃদ্ধার পা কেটে সোনার নুপুর ও গয়না খুলে নিয়ে দেহ টুকরো করে ব্যাগে ভরে ফেলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ওই এলাকার প্রায় ৩০০ জনের ফোন কল রেকর্ড ও ফরেন্সিক তথ্য পরীক্ষা করে প্রতিবেশী মুকেশ ভারতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সোনার গয়নার প্রতি লোলুপ দৃষ্টি থেকেই যে রাজস্থানে বয়স্ক মহিলাদের নিশানা করে এই ধরণের নৃশংস অপরাধ ঘটানো হচ্ছে, জোড়া ঘটনার তদন্তে নেমে তা নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারীরা।