. “আমার স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল…” চাঞ্চল্যকর পরকীয়া তত্ত্বে মোড়া গাইঘাটার কৃষক খুনে তোলপাড় এলাকা

নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ধৃতের পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এর রেষ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তক্ষয়ী কান্ডে কেঁপে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা। এবার জবা ফুলের বাগানের ভেতর এক তরুণ কৃষককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। প্রাথমিক তদন্তে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জল্পনা জোরালো হয়ে উঠেছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাড়ুগোপাল বিশ্বাস নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। বনগাঁর এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।

জবা ফুলের বাগান থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ২৩ বছরের তরুণ বাসুদেব দাস পেশায় একজন ফুলচাষি ছিলেন। এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে তিনি জবা ফুলের বাগান গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও তিনি প্রথম দফায় বাগানের পরিচর্যা করে বাড়ি ফিরেছিলেন। এরপর দুপুরে খাবার খেয়ে ফের বাগানের দিকে যান।

কিন্তু মাঠে যাওয়ার মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, জবা ফুলের বাগানের ঠিক পাশেই রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বাসুদেবের দেহ।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জল্পনা ও ক্ষোভ

স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। নিহতের জবা ফুলের বাগানের পাশেই নাড়ুগোপাল বিশ্বাসের চাষের জমি রয়েছে। অভিযোগ, বাসুদেবের সঙ্গে নাড়ুগোপালের স্ত্রী ঋতুপর্ণার একটি অবৈধ বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। গত কয়েক মাস ধরে এলাকার মানুষের মুখে মুখে এই কানাঘুষো চললেও তা থামেনি। বাসুদেবকে এই নিয়ে একাধিকবার নাড়ুগোপাল হুশিয়ারি বা শাসিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন।

দুপুরে যখন বাসুদেব নিজের বাগানে কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময় পাশের ক্ষেতে উপস্থিত থাকা নাড়ুগোপাল অতর্কিতে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।

পরিবারের কান্না ও বিচারীর দাবি

নিহত কৃষকের স্ত্রী দীপা দাস কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “সকালে স্বামী মাঠ থেকে ফিরে আবার দুপুরে গিয়েছিল। পরে প্রতিবেশীর মুখে শুনি তাঁকে কুপিয়ে মারা হয়েছে। ওই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কি না আমি জানি না, তবে ওই মহিলা আমার স্বামীর কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছিল। নাড়ুগোপাল ও তাঁর স্ত্রী মিলে আমার স্বামীকে খুন করেছে, আমি ওদের কঠোর শাস্তি চাই।”

অন্যদিকে, নিহত যুবকের বাবা শম্ভু দাস ও স্থানীয় চাষি তরুণ মণ্ডলরাও দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনায় গাইঘাটা থানার পুলিশ গোটা এলাকার নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *