‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’ প্রবাদ এবার অতীত? সরাসরি ট্রেনে চেপেই পৌঁছানো যাবে কপিলমুনির আশ্রমে!

“সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার!”— বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ কি এবার তবে বদলে যেতে চলেছে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা লঞ্চ বা ভেসেলের দীর্ঘ লাইন, মুড়িগঙ্গা নদী পারাপারের জটলা ও ভোগান্তি পেরিয়ে এবার কি সরাসরি ট্রেনের কামড়ায় চেপেই পৌঁছে যাওয়া যাবে পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগরে? দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে রেলপথ সম্প্রসারণের নতুন দাবি ঘিরে এখন তুমুল জল্পনা ও খুশির হাওয়া।

সম্প্রতি সাঁতরাগাছিতে আয়োজিত রেলের এক অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকেই সরাসরি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত নতুন রেলপথ সম্প্রসারণের জোরালো দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন ও রেল সূত্রের এই খবর সাগরদ্বীপে পৌঁছতেই আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও শুরু হয় মিষ্টিমুখ, আবার কোথাও বছরের পর বছর ধরে লালন করা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার বুকভরা আশা।

মুড়িগঙ্গার নদী পারাপারের ভোগান্তি ও রেলপথের যৌক্তিকতা

প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির পূণ্য তিথিতে দেশ-বিদেশের কোণায় কোণায় থেকে লাখ লাখ পুণ্যার্থী, সাধুসন্ত ও পর্যটক গঙ্গাসাগর মেলায় সমবেত হন। কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দেওয়া এবং বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমে পুণ্যস্নানের জন্য ভিড় জমান তারা। কিন্তু বর্তমানে সাগরদ্বীপে পৌঁছাতে শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ বা নামখানা হয়ে মুড়িগঙ্গা নদী পার হতে হয় জলপথে।

লঞ্চ ও ভেসেলনির্ভর এই যাত্রায় প্রচণ্ড ভিড়, দীর্ঘ সময় নষ্ট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাতায়াত রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শুধু তীর্থযাত্রীই নন, দ্বীপের স্থায়ী অধিবাসীদের চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে মূল ভূখণ্ডে আসার একমাত্র ভরসাও এই জলপথ। ফলে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

উৎসবে মাতলেন দ্বীপবাসী

রেলপথের দাবি সামনে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ জানা বলেন, “সাগরদ্বীপকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করার স্বপ্ন বহুদিনের। রেলপথ চালু হলে দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রীরা যেমন অনায়াসে পৌঁছাতে পারবেন, তেমনই এলাকার সার্বিক অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে।”

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা সৌগত নায়ক জানান, “ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রসার ঘটলে এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। রেলমন্ত্রীর কাছে এই দাবি উত্থাপিত হওয়ায় আমরা ভীষণ আশাবাদী।”

বাস্তবায়নের পথ কতটা সুগম?

মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবির পাশাপাশি এবার সরাসরি রেলপথ তৈরির বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হলেও, পুরো প্রকল্পটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। রেল মন্ত্রকের প্রশাসনিক অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ, নদীর ওপর ট্রেন চলার উপযোগী ব্রিজের পরিকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো বহু জটিল ধাপ পেরোতে হবে।

তবে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে দাবি থেকে প্রকল্প এবং বাস্তবায়নের দিকে রেল কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই পরম আশায় তাকিয়ে গোটা গঙ্গাসাগরবাসী।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *