ট্রাম্পের সমর্থনেও হলো না শেষরক্ষা! ইজরায়েলে ক্ষমতা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু? ২ মুসলিম নেতার হাতে রাজনীতির চাবিকাঠি!

ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচন শেষ হতেই প্রকাশ হওয়া এগজিট পোলে (Exit Polls) উঠে এসেছে চমকপ্রদ দুটি প্রধান সমীকরণ। প্রথমত, দেশটির আইনসভা বা ‘নেসেট’-এ (Knesset) এবারও কোনো একক দল বা জোট পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সক্ষম হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে জোরালো সমর্থন থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁর নিজের শক্তিতে সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারছেন না। যদি বুথফেরত সমীক্ষার এই পরিসংখ্যান শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফলে পরিণত হয়, তবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে চলেছে। আর এই পরিস্থিতিতে তেল আবিবের রাজনীতির চালকের আসনে বসতে চলেছেন দুই মুসলিম নেতা, যাদের ইজরায়েলি রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর অন্যতম ঘোর বিরোধী বলেই মনে করা হয়।এগজিট পোলে কী বলছে আসন সংখ্যার হিসাব?‘টাইমস অব ইজরায়েল’-এর রিপোর্ট এবং বুথফেরত সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু জোট পেতে পারে সর্বোচ্চ ৫৫টি আসন। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট (Eisenkot) জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আরব সমর্থিত দলগুলি যৌথভাবে ১৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, ইজরায়েলি নেসেটে মোট আসন সংখ্যা ১২০। সরকার গঠন করতে গেলে যেকোনো জোটের কাছে অন্তত ৬১টি সদস্যের স্পষ্ট সমর্থন থাকা আবশ্যক। ফলে সরকার গঠন করতে এই মুহূর্তে আরব দলগুলির সমর্থন অত্যন্ত নির্ণায়ক হতে চলেছে। যে ২ মুসলিম নেতার হাতে ক্ষমতার রাশ১. ইউসুফ জাবরিন (Yousef Jabareen):
‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর প্রভাবশালী নেতা ইউসুফ জাবরিনের জোট এবার ১২টি আসনে জয়লাভ করতে পারে বলে আভাস দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে প্রথমবার নেসেটের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। এবার তিনি সমস্ত আরব দলগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে এক শক্তিশালী ফ্রন্ট তৈরি করেছেন। নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচক জাবরিন কোন দিকে যাবেন, তার ওপর নির্ভর করছে ইজরায়েলের আগামী সরকার। নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট উভয় দলই যদি ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে থাকে, তবে জাবরিনের সমর্থনপ্রাপ্ত জোটই অনায়াসে সরকার গড়ার দৌড়ে জিতে যাবে।২. মনসুর আব্বাস (Mansour Abbas):
‘আরএএম’ (RA’AM) জোটের নেতা মনসুর আব্বাসের দল ইজরায়েলে ৪টি আসনে জয় পেতে পারে বলে সমীক্ষায় প্রকাশ। মনসুর আব্বাস একজন স্পষ্টবাদী মুসলিম নেতা। এককভাবে তাঁর দল সরাসরি প্রভাব ফেলতে না পারলেও, তিনি যদি ইউসুফ জাবরিনের সাথে হাত মিলিয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নেন, তবে ইজরায়েলের ক্ষমতার সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে যাবে।তৃতীয় অংকের সমীকরণে সক্রিয় হোয়াইট হাউস!’ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এই অচলাবস্থা কাটানো এবং নেতানিয়াহুর পতন রুখতে পর্দার আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের তরফে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোটের মধ্যে একটি সমঝোতা সরকার গড়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ওয়াশিংটন চাইছে দুটি প্রধান দল একসঙ্গে কাজ করুক, যাতে সাম্প্রতিক ইরান সংঘাতের আবহে ইজরায়েলের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।তবে আইজেনকোটের লক্ষ্য নিজস্ব জোট গড়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে ভোটের ফলাফল সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ট্রাম্প নিজের প্রচারকেই অগ্রগতির কারণ দাবি করে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমি সেখানে জয়ী হচ্ছি।” শেষ পর্যন্ত তেল আবিবের মসনদে কে বসবেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বরাজনীতিতে চড়ছে পারদ।