৭০০ বার ভুয়া বোমার হুমকি! দেশের এয়ারপোর্ট কাঁপানো খলনায়ক ধরা পড়ল চেন্নাই থেকে, পরিচয় চমকে দেবে!

হায়দরাবাদের শমশাবাদে অবস্থিত রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (RGIA) সহ দেশের একাধিক প্রধান বিমানবন্দরে ভুয়া বোমার হুমকি ইমেল পাঠানোর অভিযোগে এক সাবেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি চেন্নাইয়ের বাসিন্দা, ৩৮ বছর বয়সী স্যারথ সুব্রহ্মণ্যম।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিগত ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে অভিযুক্ত দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০টি ভুয়া বোমার হুমকির ইমেল পাঠায়। এর মধ্যে কেবল হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেই লক্ষ্য করা হয়েছিল ৪৫ বার।

যেভাবে জালে এল অভিযুক্ত
শমশাবাদ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ACP) ভি. শ্রীকান্ত গৌড় এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, অভিযুক্ত তরুণ প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছিল। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে সে ভুয়া ইমেল আইডি, ভিপিএন (VPN) এবং বিশেষ এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত।

ক্রমাগত এই ধরনের হুমকি আসতে থাকায় হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম শাখা, শমশাবাদ পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি যৌথভাবে টেকনিক্যাল ইন্টেলিজেন্স ও আইপি (IP) অ্যাড্রেস বিশ্লেষণ শুরু করে। ইমেল হেডার ডেটা এবং ডিজিটাল ট্রেইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সাইবার টিম অভিযুক্তের আসল ডিজিটাল সার্ভারের অবস্থান চেন্নাইয়ে শনাক্ত করে। এরপরই শমশাবাদ পুলিশের একটি বিশেষ দল চেন্নাইয়ে অভিযান চালিয়ে স্যারথ সুব্রহ্মণ্যমকে গ্রেপ্তার করে।

উচ্চশিক্ষিত ব্যাকগ্রাউন্ড ও আমেরিকা ফেরত অভিজ্ঞতা
ধৃত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয় পুলিশকে চমকে দিয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী স্যারথ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের (USA) মতো দেশেও আইটি পেশাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কেবল হায়দরাবাদ শহরের বিভিন্ন থানাতেই তার বিরুদ্ধে ৫০ থেকে ৬০টি ভুয়া বোমার হুমকির মামলা নথিভুক্ত রয়েছে।

সন্ত্রাসবাদী যোগ নয়, নেপথ্যে মারাত্মক মানসিক অবসাদ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের যোগসূত্র মেলেনি।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের পারিবারিক জীবনে বড় বিপর্যয় ঘটেছিল। স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের পর থেকে সে চরম মানসিক অবসাদ ও হতাশায় ভুগছিল। ব্যক্তিগত জীবনের সেই হতাশা ও ক্ষোভ থেকে নিরাপত্তা সংস্থাসমূহকে বিভ্রান্ত করতে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই সে এই পথ বেছে নিয়েছিল। বর্তমানে ধৃত স্যারথ সুব্রহ্মণ্যমকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার আরও গভীর তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *