২০২৭ বিধানসভার আগে যোগীর গড়েই ধস! যোগী-মোদী সাম্রাজ্যে সমাজবাদী পার্টির ধামাকা চমক

উত্তরপ্রদেশে বিধান পরিষদের (MLC) ১১টি আসনের ভোট গণনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের এই নির্বাচন রাজ্য রাজনীতির হাওয়া বোঝার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭২টি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই আসনগুলিতে বিপুল জয়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে বিজেপি নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়কদের পুরো ফৌজ ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তবে সব শক্তি প্রয়োগ করা সত্ত্বেও ফলাফল সামনে আসতেই বিজেপির রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
Livemint
বারাণসী ও আগ্রায় সমাজবাদী পার্টির জয়জয়কার
সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে বারাণসী এবং আগ্রার শিক্ষক আসনগুলিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় ক্ষেত্র বারাণসী এবং ঐতিহ্যবাহী আগ্রায় নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে এবার অলআউট ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্বয়ং একাধিক নির্বাচনী জনসভা করেন এবং প্রতিটি শিক্ষক ভোটারকে নিজেদের পক্ষে টানতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে। কিন্তু ভোটের বাক্স খুলতেই দেখা যায়, বিজেপির সব সমীকরণ বাতিল করে দুটি আসনেই জয় পতাকা উড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (SP)।
ঝাঁসি ও লখনউয়ে বড় ধাক্কা বিজেপি শিবিরের
ঝাঁসি ও লখনউয়ের স্নাতক আসনগুলিতেও বিজেপির চিন্তা বাড়িয়েছে এসপি। ২০২০ সালের নির্বাচনে লখনউ স্নাতক আসনটি বিজেপির দখলে থাকলেও, এবার সেখানে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন ও এগিয়ে রয়েছেন। একইভাবে ঝাঁসি আসনটিতে বিজেপি নিজের সমস্ত প্রতিষ্ঠা বাজি রেখে মন্ত্রী ও সাংসদদের দিয়ে টানা জনসংযোগ চালিয়েও সমাজবাদী পার্টির জোরালো লিড ভাঙতে পারেনি।
যোগী আদিত্যনাথের নিজের গঢ়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও হাই-ভোল্টেজ লড়াই দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের জেলা ও রাজনৈতিক কেন্দ্র গোরক্ষপুর শিক্ষক আসনে। সেখানে বিজেপির ধ্রুব ত্রিপাঠী ও এসপি-র সংজয়ন ত্রিপাঠীর খেলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা। নির্দল প্রার্থী রাজীব যাদব এবং বিজেপির ধ্রুব ত্রিপাঠীর মধ্যে মাত্র সামান্য কিছু ভোটের ব্যবধানে জোরদার লড়াই চলছে। নিজের দুর্গে এত কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়া পদ্ম শিবিরের দুশ্চিন্তা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
পূর্বাঞ্চল ও বুন্দেলখণ্ডে বিজেপির জন্য সতর্কবার্তা?
রাজনৈতিক পণ্ডিতদের বক্তব্য, এই নির্বাচনের ফলাফল বিজেপির আসন সংখ্যায় বড় ধরনের ধস না নামালেও, দলীয় স্তরে এক বড় সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজস্ব এলাকা ‘পূর্বাঞ্চল’ এবং ‘বুন্দেলখণ্ড’-এর একমাত্র আসনে বিরোধী সমাজবাদী পার্টির এমন উত্থান আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। যদিও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং রুহেলখণ্ডের আসনগুলিতে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখতে সফল হয়েছে শাসকদল। তবে শিক্ষকদের মতো প্রভাব বিস্তারকারী ভোটার শ্রেণিতে সমাজবাদী পার্টির এই জমি শক্ত করা বিজেপিকে আগামী দিনের কৌশল ফের পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।