উপকূল ছাড়িয়ে সোজা পাহাড়ে আছড়াবে সাইক্লোন ‘অর্ণব’! তুষারপাত ও দুর্যোগের আশঙ্কায় কাঁপছে উত্তরবঙ্গ-সিকিম!

‘অর্ণব’ নাম শুনলেই এখন কপালে হাত পড়েছে প্রশাসনের। ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে যখন তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই উপকূল থেকে বহু দূরে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাতেও এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বিশিষ্ট আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্গার মতে, বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। একদিকে সামুদ্রিক ঝড়ের রেশ এবং অন্যদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জোড়া ফলায় আগামী কয়েক দিন পাহাড়ের আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে ওঠার পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি এবং দার্জিলিংয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল ও সিকিমে ভারী তুষারপাত ও শিলাবৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন আবহবিদরা।
বেসরকারি আবহাওয়া বিশ্লেষক সংস্থা ‘ওয়েদার আলটিমা’-র কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের আবহাওয়া বেশ দুর্যোগপূর্ণ থাকতে পারে। তবে সব জায়গায় সমান আবহাওয়া না থেকে এলাকার উচ্চতা এবং স্থানীয় ভৌগোলিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বৃষ্টি বা তুষারপাতের পরিমাণে তারতম্য দেখা যাবে। ২৮ অক্টোবর থেকেই আবহাওয়ার পটপরিবর্তন?পূর্বাভাস বলছে, ২৮ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের সমতল ও অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার অঞ্চলগুলিতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে স্বল্প সময়ের জন্য হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। কিছু কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝারি ধরনের বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘের ঘনঘটার ওপর নির্ভর করে বৃষ্টির তারতম্য ঘটবে।
দার্জিলিং ও সিকিমে তুষারপাতের সম্ভাবনাউত্তরবঙ্গের উঁচু পাহাড়ি এলাকা এবং সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবহাওয়া মারাত্মক রূপ নিতে পারে। টুমলিং, সান্দাকফু এবং সংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে আগামী ২৮ অক্টোবরের শেষ ভাগ থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত তুষারপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক জায়গায় আবার বৃষ্টি এবং তুষার একসঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি হতে পারে ‘স্লিট’ বা শিলাবৃষ্টির মতো পরিস্থিতি। ঘন মেঘ, বৃষ্টি এবং বরফ পড়ার কারণে পাহাড়ি রাস্তায় দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি অনেকটাই কমে যেতে পারে, যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করবে।
কুয়াশা ও সতর্কবার্তাআগামী সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন সড়কে ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে গাড়ি চালক ও পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় যাঁরা দার্জিলিং, সান্দাকফু, টুমলিং কিংবা সিকিম ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের অবশ্যই লেটেস্ট ওয়েদার আপডেট বা আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন দেখেই ঘর থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।