১১ লাখ কোটি থেকে সোজা ৪৬ হাজার কোটি! হু-হু করে কমছে গচ্ছিত টাকা, বাড়তে পারে ব্যাংক ঋণের সুদ

ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় নগদ টাকার উদ্বৃত্ত দ্রুত কমতে শুরু করেছে। ডলারের বিপরীতে রুপির ধারাবাহিক পতন সামাল দিতে এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ঋণবাজারে নগদের জোগান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। এর সরাসরি প্রভাবে ব্যাঙ্কগুলির হাতে থাকা অতিরিক্ত গচ্ছিত টাকার পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে কমে গিয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী দিনে ব্যাঙ্কিং ও ব্যাঙ্ক-বহির্ভূত আর্থিক সংস্থাসমূহের ফান্ড সংগ্রহের খরচ বাড়বে, যার আঁচ পড়তে পারে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটেও।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার হাতে অতিরিক্ত নগদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু ২৬ অক্টোবর সেই উদ্বৃত্ত অঙ্ক অবিশ্বাস্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬,২০০ কোটি টাকায়! অর্থাৎ, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার থেকে উবে গিয়েছে এক বিশাল অংকের নগদ টাকা।
কেন এই নগদ সংকট?
চলতি মাসের শুরুতে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপি রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামে আরবিআই। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগদ টাকার এই টানাটানি আসলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। বাজারের অংশগ্রহণকারীরা যাতে রুপি ধার করে ডলার কেনা বা লেনদেন করার সুযোগ না পায়, সেই লক্ষ্যেই ঋণের খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঋণের সুদের হার বেশি থাকলে রুপি শর্ট-সেল বা ডলার কেনার প্রবণতা ধাক্কা খাবে, যা পরোক্ষভাবে রুপির পতন রুকতে সাহায্য করবে।
আর্থিক বাজারে প্রভাব ও ঋণের সুদের চাপ:
ব্যাঙ্কগুলির নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে আরবিআই আপাতত সীমিত সহায়তা দিচ্ছে। দৈনিক ভিত্তিতে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার সীমা ধার্য রাখা হয়েছে। বহু দিন ব্যাঙ্কগুলির প্রকৃত চাহিদা এই সীমা অতিক্রম করে গেলেও অতিরিক্ত নগদ জোগান দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ফলে ওভারনাইট বা এক রাতের জন্য ব্যাঙ্কগুলির নিজেদের মধ্যে ধার নেওয়া-দেওয়ার সুদের হার সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি চলে গিয়েছে।
ইতোমধ্যেই গত সপ্তাহে ৩ মাস ও ৬ মাস মেয়াদি ‘সার্টিফিকেট অফ ডিপোজিট’-এর সুদের হার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে গত সাত মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সময়বিশেষে মুদ্রানীতির কড়া ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে আগামীতে তহবিলের খরচ আরও বাড়তে পারে।
সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
ব্যাঙ্কগুলির আমানত বা ফান্ড সংগ্রহের খরচ যদি বাড়তে থাকে, তবে স্বভাবতই তার প্রভাব পড়বে সাধারণ গ্রাহকদের হোম লোন, কার লোন কিংবা পার্সোনাল লোনের সুদের ওপর। তবে ঋণের ইএমআই (EMI) কতখানি বৃদ্ধি পাবে, তা নির্ভর করবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আগামী দ্বিমাসিক নীতি এবং প্রতিটি ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপর।