চোরওয়াড় থেকে জামনগর হয়ে জিও! দাদু ধীরুভাইয়ের সংগ্রাম স্মরণ করে কি বললেন অনন্ত আম্বানি?

চোরওয়াড় থেকে জামনগর, আর সেখান থেকে আজকের বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘জিও’। বুধবার জিও প্ল্যাটফর্মসের ঐতিহাসিক আইপিও (IPO) তালিকাভুক্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিলায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা দাদু ধীরুভাই আম্বানির সাধারণ জীবন থেকে উঠে আসার রোমাঞ্চকর সংগ্রাম ও পরিবারের অসামান্য যাত্রার কথা স্মরণ করলেন নাতি অনন্ত আম্বানি।

অনুষ্ঠানে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানির এই আবেগঘন বক্তব্য শোনামাত্রই উপস্থিত বহু মানুষের চোখ জলে ভরে ওঠে, আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পিতা মুকেশ আম্বানিও।

“ব্যবসা আমার কাছে পুজো”

বক্তব্যের শুরুতেই দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনন্ত বলেন, “আজকের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ দিয়েই আমি শুরু করতে চাই—তা হলো কৃতজ্ঞতা। জিওর ওপর বিশ্বাস রেখে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনটিকে যিনি বা যাঁরা সম্ভব করে তুলেছেন, সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতি আমাদের বিনম্র প্রনাম। আজ শেয়ার বাজারের এই ঘণ্টাধ্বনি আমার কাছে মন্দিরের ঘণ্টার মতো শোনাবে। কারণ, আমার পরিবারে ব্যবসা মানেই পুজো। আজ জিওকে ভারতের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এক পরম পবিত্র দিন।”

এক সাধারণ পরিবার থেকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

পরিবারের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে অনন্ত আরও বলেন, “বহু বছর আগে গুজরাতের চোরওয়াড়ের একটি অত্যন্ত সাধারণ বাড়িতে যে স্বপ্নের জন্ম হয়েছিল, আজ তা বটবৃক্ষ। এক সাধারণ তরুণ এক সময় ইয়েমেনের এডেনে পেট্রল পাম্পে কাজ করতেন। তাঁর কাছে অর্থ ছিল না, পরিচয় ছিল না। তিনিই আমাদের শ্রদ্ধেয় দাদু শ্রী ধীরুভাই আম্বানি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, একজন অতি সাধারণ ভারতীয়ও অসাধারণ স্বপ্ন দেখার সাহস রাখতে পারেন।”

তিনি যোগ করেন, “এরপর আমাদের বাবা নিজের একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, প্রযুক্তি ও শিল্পে ভারত যেন পৃথিবীর কারও চেয়ে পিছিয়ে না থাকে। জামনগরের অনুর্বর জমিতে তিনি তৈরি করেছিলেন বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার। তিনি দেখিয়েছিলেন, ভারত যখন কিছু তৈরি করে, বিশ্ব সেদিকে তাকিয়ে থাকে। এরপর এলো নতুন প্রজন্মের ভারত—জন্ম নিল প্রতিটি মানুষের হাতে সস্তায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন, প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে বিশ্বকে তুলে ধরার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নেরই নাম জিও।”

দেশজুড়ে জিও-র মানবিক সংযোগ

জিও কীভাবে প্রতিটি ভারতীয়র জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তা তুলে ধরে অনন্ত বলেন, “ইশা দিদি এই স্বপ্নের বীজ রোপণ করেছিলেন, আর আকাশ ভাই সেই স্বপ্নকে নিজের করে নিয়েছিলেন। যখন করোনাকালে গোটা বিশ্ব থমকে গিয়েছিল, তখন স্কুল বন্ধ থাকলেও জিও-র দৌলতে শিশুদের পড়াশোনা একদিনের জন্যও থামেনি। হাজার হাজার মাইল দূরে সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা জওয়ান যখন জিও-র ভিডিও কলে মাকে বলেন ‘আমি ভালো আছি’, কিংবা মুম্বইয়ের ডাক্তার যখন রাজস্থানের রোগীর চিকিৎসা সফলভাবে করেন—এই সমস্ত অসাধ্যকে এক সুতোয় বেঁধেছে জিও।”

৫৩ কোটি পরিবারকে সম্মান

জিও-র সাড়ে ৫৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক ও কর্মচারীদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়ে অনন্ত বলেন, “জিও আপনারা তৈরি করেছেন। আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আজ আমি, ইশা দিদি ও আকাশ ভাই তিনটি আলাদা শরীরে দাঁড়িয়ে থাকলেও আমাদের আত্মা এবং অঙ্গীকার এক। আমাদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে দাদুর স্বপ্ন, ঠাকুমার আশীর্বাদ, বাবার দিকনির্দেশনা এবং মায়ের বিনয়ী শিক্ষার সঙ্গে।”

মোবাইল টাওয়ারে ওঠানামা করা টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড স্টাফ ও রিটেল পার্টনার—সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানিয়ে জিও-র এই নতুন পথচলার সূচনা করেন আম্বানি পরিবারের কনিষ্ঠ পুত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *