হোটেলের বন্ধ ঘরে রক্তারক্তি! ৫ জনকে গুলি করে ঝাঁঝরা, গুয়াহাটির ঘটনায় শোরগোল দেশজুড়ে!

সম্পত্তির সামান্য বিবাদ যে এত বড় নারকীয় রূপ নিতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি কেউ। লিজ সংক্রান্ত বিবাদের জেরে অসমের গুয়াহাটির এক হোটেলে চলল একের পর এক গুলি। অতর্কিত এই গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ জন। সোমবার রাতের এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গুয়াহাটির লচিত নগর এলাকায়।

ঠিক কী ঘটেছিল সোমবার রাতে?
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। প্রাথমিক তদন্তের পর গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার ডঃ পার্থ সারথি মহন্ত জানান, গুলি চালানোর পেছনে হোটেলের লিজ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সম্পত্তির বিবাদই মূল কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই একই পরিবারের সদস্য। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ‘হোটেল বিলাস ইন’-এর মালকিন হেলেনা ভারালি এবং তাঁর ছেলে। বাকি এক মৃত ব্যক্তি এবং আহত ব্যক্তি একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

এক ঘণ্টার মধ্যে জালে ঘাতক
ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ প্রশাসন। সোমবার রাতের এই নৃশংস ঘটনার অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে এক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে গুলি চালানোর কাজে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিও ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্ত জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আমাদের সন্দেহ, হোটেল বিলাস ইন-এর লিজ চুক্তি সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত।” তবে ঘটনার পেছনে আর কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা জানতে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। তদন্তকারীরা ঘটনার আগের ও পরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও যোগ করেন, মামলাটির যৌক্তিক পরিণতি নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তি
ঘটনার পর আহত দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (GMCH) নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁদের মধ্যে একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জিএমসিএইচ (GMCH)-এর ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল তথা চিফ সুপারিনটেনডেন্ট অধ্যাপক বাবুল কুমার বেজবড়ুয়া জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসা ৪৮ বছর বয়সি নারায়ণ দাস নামের এক ব্যক্তির শরীরে গুরুতর গুলির ক্ষত ছিল এবং চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, ৪২ বছর বয়সি সত্যেন্দ্র পাঠক নামের অপর আহত ব্যক্তির শরীরে গুলি ঢোকা ও বের হওয়ার স্পষ্ট ক্ষত রয়েছে। বর্তমানে অর্থোপেডিক্স এবং সার্জারি বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *