পুজোয় CPIM-এর বুকস্টলে হামলা ও আগুন!—রণক্ষেত্র বাংলা, সাফাই দিল বিজেপি

দুর্গাপুজোর উৎসবের আমেজের মাঝেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় বামেদের বুকস্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। ঢাকুরিয়া থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়া ও নোয়াপাড়া— বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের (CPIM) বইয়ের স্টল ভাঙচুর এবং তাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শাসক শিবির ও বিরোধীদের তরজা তুঙ্গে উঠলেও, বিজেপি সমস্ত অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে।
কোথায় কী ঘটেছে? উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়া চারা পোল এলাকায় রাতের অন্ধকারে সিপিএমের একটি বুকস্টল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের পার্টি অফিসের সামনের বুকস্টলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বই বিক্রি বন্ধ করা যাবে না। রাতের অন্ধকারে জানোয়াররাই এ ধরনের কাণ্ড ঘটাতে বের হয়।” একই সঙ্গে নোয়াপাড়াতেও বুকস্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ঢাকুরিয়াতেও মার্ক্সীয় ও প্রগতিশীল পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সহ-সভাপতি প্রিয়াংগু পাণ্ডে। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন, বামেরা নিজেরাই এই ধরনের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। তাঁর স্পষ্ট কথা, বিজেপি কোনো বুকস্টল ভাঙেনি। পাশাপাশি, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই ঘটনায় দলের জড়িত থাকার কথা খারিজ করে দিয়ে বলেন, “অতীতে সিপিএম তাণ্ডব চালিয়েছে, পরে তৃণমূল এসেছে। এখন কিছু পুরনো লোক বিজেপিতে এসে নিজেদের পুরনো ক্ষোভ মেটাচ্ছে।”
বনগাঁয় বুকস্টল মামলায় বড় ধাক্কা বামেদের: অন্যদিকে, পুজোর মরসুমে বনগাঁয় বামেদের বুকস্টল খোলার পথ আরও দীর্ঘ হলো। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ বনগাঁয় সিপিএমকে পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে স্টল তৈরির অনুমতি দিয়েছিল এবং পুলিশি সুরক্ষারও নির্দেশ দিয়েছিলো। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার।
শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিটি পূর্ত দফতরের অধীন হওয়ায় এটি সম্পূর্ণভাবে জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়। তাই এই মামলা শোনার এক্তিয়ার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নেই। সবমিলিয়ে, পুজো ও বইয়ের স্টল নিয়ে রাজ্যজুড়ে এখন রাজনৈতিক পারদ চড়ে রয়েছে।