“এ তো অঘোষিত জরুরি অবস্থা!” অভিজিৎ দীপকে আটক হতেই হুঙ্কার মমতার

তেরঙা যাত্রা বের করার ঠিক আগেই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি থাকা এবং প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ই আটক করা হয়। আর এই ঘটনা ঘটার পরেই সিজেপি প্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে নেওয়ার অপরাধে আটক করা হয়েছে অভিজিৎ দীপকেকে। বিষয়টি একবার ভাবুন! স্বাধীন ভারতে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করার জন্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে আটক হতে হচ্ছে। এ তো কার্যত অঘোষিত জরুরি অবস্থারই নামান্তর।”

কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও লেখেন, “যে সরকার ভিন্নমতকে ভয় পায়, তারা এখন গোটা প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যে কণ্ঠস্বরকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তাকে সহ্য করতে না পারাই ফ্যাসিবাদী শাসনের লক্ষণ।”

অভিজিৎ দীপকে ছাড়াও ধৃত অন্য দুই নেতা আশুতোষ ও সৌরভের উদ্দেশে বার্তার সুরে মমতা লেখেন, “অভিজিৎ, আশুতোষ, সৌরভ— তোমরা ভারতের যুবসমাজের সাহস, বিবেক ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। কণ্ঠরোধ করে গোটা প্রজন্মকে স্তব্ধ করা যায় না। তোমাদের ‘দিদি’ দৃঢ়ভাবে তোমাদের পাশে রয়েছে। ভয় দেখিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে গণতন্ত্রের চেতনাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। জেগে ওঠো ভারত! গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার লড়াই চলবে।”

প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও আগের ইতিহাস: সিজেপির এই কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কনট প্লেস চত্বরে রাফ এবং পর্যাপ্ত আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তথা জনসংযোগ আধিকারিক রাজীব রঞ্জন স্পষ্ট জানান, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিজস্ব নিয়ম ও ফ্ল্যাগ কোড রয়েছে, যা প্রত্যেক নাগরিকের মেনে চলা উচিত।

উল্লেখ্য, এর আগেও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছিল পুলিশ। সেবার আদালত ৫০ হাজার টাকার পিস বন্ডের বিনিময়ে এবং এক বছর কোনো অশান্তি না করার শর্তে তাঁকে মুক্তি দিয়েছিল। সেই আইনি বাধা ও নিষেধাজ্ঞা তুচ্ছ করে সিজেপি পুনরায় এই তেরঙা মিছিলের ডাক দেওয়ায় রাজনৈতিক পারদ এখন চরমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *