মেট্রোর টিকিট মিলবে কিউআর কোড স্ক্যান করে, লাইন ছোট করতে বড় পদক্ষেপ

উত্তর থেকে দক্ষিণ— পুজো মানেই তিলোত্তমায় উৎসবের জোয়ার। আর এই প্যান্ডেল হপিংয়ের রুট ম্যাপে কলকাতার লাইফলাইন মেট্রো বরাবরই সকলের প্রথম পছন্দ। তবে পুজোর কদিন প্রতিটি স্টেশনেই টিকিটের কাউন্টারে যে দীর্ঘ লাইন পড়ে, তা অনেক সময়ই যাত্রীদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই ভিড় ও ঝক্কি এড়াতে এবার এক অভিনব ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে স্মার্টফোনে আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড না করেই অত্যন্ত সহজে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে টিকিট কেটে ফেলা যাবে।
মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর মরশুমে কাউন্টারের সুদীর্ঘ লাইন এড়িয়ে যাত্রীদের দ্রুত টিকিট পাইয়ে দিতে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডরের ভিড়বহুল ১০-১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের দেওয়ালে বা পিলারে এই কিউআর কোডযুক্ত বিশেষ পোস্টার বা স্টিকার সাঁটানো হয়েছে।
কোন কোন স্টেশনে মিলবে এই সুবিধা?
আপাতত শিয়ালদহ, দমদম, দক্ষিণেশ্বর, এসপ্ল্যানেড, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, রবীন্দ্র সরোবর, মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ), কালীঘাট, শোভাবাজার-সুতানুটি, পার্কস্ট্রিট, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং হাওড়া স্টেশনে এই বিশেষ পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
কীভাবে কাটবেন কিউআর টিকিট?
মেট্রোর এই নতুন ও সহজ পরিষেবা পেতে যাত্রীদের কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে:
-
১. স্ক্যান করুন: মেট্রো স্টেশনের দেওয়ালে বা নির্দিষ্ট পিলারে টাঙানো অফিসিয়াল কিউআর কোডটি মোবাইল ক্যামেরা বা স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করুন।
-
২. লিঙ্কে প্রবেশ: স্ক্যান করার পর স্ক্রিনে আসা লিঙ্কে ক্লিক করে নির্দিষ্ট ওয়েবপেজে প্রবেশ করুন এবং ‘Buy QR Ticket’ অপশনটি বেছে নিন।
-
৩. তথ্য দিন: এরপর আপনার গন্তব্য স্টেশন, যাত্রীর সংখ্যা এবং মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করুন।
-
৪. পেমেন্ট ও ডাউনলোড: ইউপিআই (UPI), ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পেমেন্ট করুন। পেমেন্ট সফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ফোনে একটি ডিজিটাল কিউআর টিকিট বা পিডিএফ ফাইল জেনারেট হয়ে যাবে।
এন্ট্রি বা এএফসি (AFC) গেটে পৌঁছানোর পর মোবাইলের স্ক্রিনেই থাকা ওই কিউআর কোড স্ক্যান করলেই গেট খুলে যাবে। তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, যে স্টেশনের জন্য টিকিট কাটা হচ্ছে, গন্তব্য ভুল হলে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে নির্দেশিকা ভালো করে দেখে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। উৎসবের দিনে লাইনের ঝামেলা এড়িয়ে এই ডিজিটাল বন্দোবস্ত যে যাত্রীদের সময় এবং শক্তি উভয়ই বাঁচাবে, তা বলাই বাহুল্য।