পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বড় চাল! ইমরান খানের শেষ শক্ত ঘাঁটিও হাতছাড়া, গ্রেফতার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও সেনাবাহিনীর আগ্রাসী দমনপীড়ন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হলো। সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সরাসরি নির্দেশে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন একমাত্র প্রাদেশিক সরকারটিকেও স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা পিটিআইয়ের শীর্ষনেতা সোহেল আফ্রিদিসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সেনা ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান খানকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে যখন সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে পুরো পাকিস্তানজুড়ে এক বিশাল লং মার্চ বা পদযাত্রার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, ঠিক তখনই সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও ইমরান খানের এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নতুন মোড় এল।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৪০ হাজার পাঞ্জাব পুলিশ নামানোর পরিকল্পনা
রাওয়ালপিন্ডি থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এবং সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের সাথে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই উত্তাপ চরম আকার ধারণ করেছে। ডন (Dawn) পত্রিকার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইমরান খানের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও পিটিআই সমর্থকদের দমন করতে শাহবাজ শরীফ সরকার ও সেনাপ্রধান অতিরিক্ত ৪০ হাজার পাঞ্জাব পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার চক্রান্ত করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে এই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেই শাহবাজ শরীফ ও জেনারেল আসিম মুনির জুটি ইমরান খানের জনপ্রিয়তার কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছিল। ফলে সেখানে পিটিআই সরকার গঠন করে। শাহবাজের দল ও সেনা সদরের অভিযোগ, স্থানীয় খাইবার পুলিশ ও প্রশাসন সন্ত্রাসবাদী এবং ইমরান সমর্থকদের মদত দিচ্ছে। তাই সেখানে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের অনুগত পুলিশ বাহিনীকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাসি খাবার খেয়ে মৃত্যুর কোলে সহকর্মীরা! পাঞ্জাব পুলিশে গণ-বিদ্রোহ
তবে সেনাপ্রধান ও কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত এবার খোদ পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে পড়েছে। পাঞ্জাব পুলিশের একাধিক দল খাইবারে গিয়ে ইমরান সমর্থকদের বিরুদ্ধে কাজ করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিক্ষুব্ধ পুলিশকর্মীদের বিস্ফোরক অভিযোগ, সম্প্রতি সেনার নির্দেশে ইমরান সমর্থকদের দমনে যাদের অন্য প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছিল, তাদের চরম অবহেলা করা হয়েছে। মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দূরের কথা, তাদেরকে দিনের পর দিন পচা ও বাসি খাবার খেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই বিষাক্ত খাবার খেয়ে ইতোমধ্যেই বাহিনীর অন্তত ৫ জন পুলিশ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে!

ক্ষুব্ধ পুলিশ সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা সদর দপ্তরের এই আত্মঘাতী নির্দেশ মানবেন না। “যে সরকার নিজের পুলিশকর্মীদের প্রাণের কথা ভাবে না, সেই সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমরা নিজেদের বলি দেব না”—এমনটাই হুঙ্কার দিয়েছেন তাঁরা।

মুখ রক্ষা করার চেষ্টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
পুলিশ বাহিনীর মধ্যে হঠাৎ এই গণ-বিদ্রোহ ও সেনার বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠায় অস্বস্তিতে পড়েছে পাক সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঞ্জাব পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যখনই কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তখন সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

একদিকে ইমরান খানকে মুক্ত করার আন্দোলন, অন্যদিকে প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দেওয়া এবং পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে পাকিস্তান যে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *