“ফসল পুড়ে ছাই, মাথার ওপর লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণ!” খরা বিধ্বস্ত মারাঠওয়াড়ায় ফের বুকফাটা আর্তনাদ কৃষকের

মারাঠওয়াড়ার ভয়াবহ খরা পরিস্থিতি যেন ধীরে ধীরে কৃষকদের জীবন কেড়ে নেওয়ার এক অন্তহীন উপাখ্যানে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি লাতুরের নীলাঙ্গা তালুকের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী কৃষক অমল মুগলের মর্মান্তিক আত্মহত্যা কৃষি সংকট এবং দুর্দিনে কৃষকদের সময়মতো সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা পাওয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। খরায় সমস্ত ফসল চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া এবং ব্যাংক ও বেসরকারি মহাজনের ঋণের চাপে পিষ্ট হয়ে চরম পদক্ষেপে বাধ্য হন ওই কৃষক। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণ তিন মেয়ে ও পরিবারের মাথার ওপর এমন এক পাহাড়সম শোক ও অনিশ্চয়তা ডেকে এনেছে, যা কোনো আর্থিক সাহায্যেই কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

সংবাদ পাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি পঞ্চনামা তৈরি করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে—খরায় জর্জরিত এই অন্নদাতারা আদতে কবে সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাবেন, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির সম্মুখীন হতে না হয়? উল্লেখ্য, এর কিছুদিন আগেই লাতুরের রেনাপুর তহসিলের পালশি গ্রামে ৬০ বছর বয়সী কৃষক জীবন গাভানের আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছিল।

৮০ শতাংশ তালুকায় তীব্র খরা পরিস্থিতি
বর্তমানে মহারাষ্ট্রের প্রায় ৮০ শতাংশ তালুকা তীব্র খরার করাল গ্রাসে রয়েছে। মারাঠওয়াড়া অঞ্চলের জলসংরক্ষণ পরিস্থিতিও বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই এলাকার ৭৮টি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প ইতিমধ্যেই পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে এবং চারটি মাঝারি আকারের পুকুরে এক ফোঁটাও জল অবশিষ্ট নেই। মাঝারি ও ছোট প্রকল্পগুলিতে জলের গড় সঞ্চয় নেমে এসেছে মাত্র ১৯ শতাংশে।

বিশেষ করে লাতুর ও ধরশিব (উসমানাবাদ) জেলায় খরা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তুলনামূলকভাবে নান্দেদ জেলার বাঁধগুলির অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও, সেখানকারও তিনটি বাঁধ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। মারাঠওয়াড়ার ১৮টি মাঝারি এবং ৩০০টি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩১৮টিতে জল সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যার মধ্যে ২১৫টি বাঁধে জলধারণ ক্ষমতা ২৫ শতাংশের অনেক নিচে নেমে গেছে।

পানীয় জলের জন্য তীব্র হাহাকার
আগামী দিনগুলিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, জালনা জেলার আম্বাদ তালুকের গলহাটি মাঝারি সেচ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ায় আশপাশের ১৫ থেকে ২০টি গ্রামে এখন তীব্র জলের সংকট তৈরি হয়েছে। শুধু মানুষ নয়, গবাদি পশুর জন্য প্রয়োজনীয় পানীয় জল সরবরাহ করাও বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেচ প্রকল্পের জমিতে দেখা দেওয়া বড় বড় ফাটলগুলিই এই অঞ্চলের খরা ও জলের অভাবের এক নির্মম ও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *