“ইশ, আমিও যদি সুযোগ পেতাম!” মাঝআকাশে মহেন্দ্র সিং ধোনির মিষ্টি কৌতুক শুনে হেসে কূল পেলেন না বিমানসেবিকা

বাইরে থেকে দেখতে যতই গ্ল্যামারাস মনে হোক না কেন, একজন এয়ার হোস্টেস বা ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের চাকরিটি অত্যন্ত পরিশ্রমের ও ব্যস্ততাপূর্ণ। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নিরবচ্ছিন্ন ডিউটি আর যাত্রীদের সেবায় কাটানো ক্লান্তিকর একটা দিনের পর এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছিলেন ইন্ডিগোর এয়ার হোস্টেস ঐশ্বর্য সিং। কিন্তু তাঁর সেই সমস্ত ক্লান্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল, যখন তিনি বিমানের কেবিনে দেখতে পেলেন ভারতের প্রাক্তন কিংবদন্তি অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে!
যেন স্বপ্নের মতো এক মুহূর্ত!
ক্যাবিনের আসনে শান্তভাবে বসে থাকা ক্রিকেট দুনিয়ার ‘ক্যাপ্টেন কুল’-কে নিজের ঠিক সামনে দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না ঐশ্বর্য। আনন্দের আতিশয্যে নিজেকে সামলাতে না পেরে তিনি ধোনির কাছে গিয়ে নিজের ভালোলাগার কথা ব্যক্ত করেন। ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অবদান এবং তিনি কীভাবে কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা, তা ধোনিকে সরাসরি জানান ওই বিমানসেবিকা।
‘ক্যাপ্টেন কুল’-এর উদারতা ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ
তবে এই বিশেষ সাক্ষাতের সবচেয়ে সুন্দর ও চমকপ্রদ দিক ছিল মাহির বিনয়। একজন বিশাল মাপের বিশ্বখ্যাত সেলিব্রিটি হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ একটা অভিবাদন জানিয়ে চলে যাননি ধোনি। বরং অত্যন্ত ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে তিনি ঐশ্বর্যের দীর্ঘ কাজের সময়সূচী এবং উড়ান পরিষেবায় কাজ করার নানা চ্যালেঞ্জের কথা শোনেন।
এয়ার হোস্টেসদের এমন কঠিন ও ব্যস্ত জীবনযাত্রার সাথে কীভাবে মানিয়ে নিয়ে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়ে বেশ কিছু সহায়ক ও বাস্তবমুখী টিপসও দেন ধোনি। এখানেই শেষ নয়, ফ্লাইটের ভেতরের পরিবেশকে হালকা ও আনন্দদায়ক করে তুলতে উড়ান-সংক্রান্ত একটি দারুণ মজার কৌতুকও শোনান এমএসডি। ধোনির মুখে সেই জোক শুনে হেসেই আকুল হন এয়ার হোস্টেস ঐশ্বর্য।
নেটিজেনদের প্রশংসার জোয়ার ও হিংসার অনুভূতি!
নিজের জীবনের এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন ঐশ্বর্য। ভিডিওটি পোস্ট হতেই ইন্টারনেটে ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়ে যায়। ধোনি ভক্তরা কমেন্ট বক্সে ভালোবাসার জোয়ার ভাসিয়ে দিয়েছেন।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আপনি আসলে আমাদের দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন বাঁচছেন!” অন্য এক নেটিজেন ঠাট্টা করে মন্তব্য করেছেন, “সত্যি বলছি, আপনাকে দেখে এখন বড্ড হিংসা হচ্ছে।” আর একজন অনুরাগী লিখেছেন, “ইশ! যদি কোনোদিন মাহি ভাইয়ের সাথে এভাবে সামনাসামনি দেখা করার সুযোগ পেতাম!” ধোনির এই অমায়িক এবং মাটির কাছাকাছি থাকা মানসিকতা আবারও প্রমাণ করল, কেন তিনি ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছেন।