খুনের পরেও সারারাত ধরে চলল ২০ লাখ টাকার মুক্তিপণ আদায়ের নাটক! গ্রেফতার বরখাস্ত হওয়া পাহারাদার

তেলেঙ্গানার বোলারাম এলাকার একটি অভিজাত গেটেড সোসাইটি থেকে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে অপহরণ এবং নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আর কেউ নয়, ওই সোসাইটি থেকেই কিছুদিন আগে বরখাস্ত হওয়া এক প্রাক্তন নিরাপত্তা রক্ষী! নৃশংস এই খুন করার পরেও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা না দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সারারাত ধরে মৃত শিশুটির পরিবারের কাছে কুড়ি লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে গেছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছে অভিযুক্ত।
বাথুকাম্মা উৎসব থেকে নিখোঁজ শিশু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত শিশুটির নাম অরেলিয়া। তার বাবা মিল্টন ফার্নান্দেজ একটি বেসরকারি কৃষি সংস্থায় গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত। গত শনিবার সোসাইটিতে ‘বাথুকাম্মা’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানেই যোগ দিতে ক্লাবহাউসে গিয়েছিল অবুঝ অরেলিয়া। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে চারদিকে খোঁজ শুরু করেন।
ঠিক সেই সময়ই মেয়েটির দাদুর ফোনে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনকারী দাবি করে যে শিশুটি তার জিম্মায় রয়েছে এবং তাকে সুস্থভাবে পেতে হলে কুড়ি লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। প্রথমে পরিবারের দাবি ছিল, তারা এত টাকা দিতে অক্ষম এবং মেয়ের মুখ একবার ভিডিও কলে দেখাতে হবে। কিন্তু অভিযুক্ত কোনোভাবেই ভিডিও কলে শিশুটিকে দেখাতে রাজি হয়নি। এরপরই পরিবারটি কালবিলম্ব না করে বোলারাম থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে।
জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার দেহ
পুলিশ এবং সোসাইটির বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। ফুটেজে দেখা যায়, উৎসবের ভিড় থেকে শিশুটিকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সোসাইটিরই এক বরখাস্ত হওয়া নিরাপত্তা রক্ষী বিক্রম এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। অন্য এক প্রহরীর ফোন ব্যবহার করে সে এই মুক্তিপণের ফোনগুলো করেছিল।
তদন্তে নেমে পুলিশ ও সোসাইটির সদস্যরা শনিবার গভীর রাতে ওই ক্লাবহাউসের বেসমেন্টে তল্লাশি চালায়। বেসমেন্টের একটি জলের ট্যাঙ্ক থেকে অরেলিয়ার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক শিশুটির হাত-পা নির্মমভাবে বেঁধে রেখেছিল এবং জল থেকে যাতে সে কোনোভাবেই ভেসে উঠতে না পারে, সেই কারণে তার কোমরে দুটি ভারী ইটও বেঁধে দিয়েছিল! অর্থাৎ, ফোন করার অনেক আগেই যে শিশুটিকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, পরিবারে শোকের মাতম
এই পৈশাচিক ঘটনায় গোটা গেটেড সোসাইটিতে আতঙ্ক ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। পুলিশ ড্রোন ও বিশেষ দল গঠন করে তদ্বিরের পর অভিযুক্ত বিক্রমকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি সোসাইটির অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। চোখের সামনে ফুটফুটে সন্তানকে হারানোর পর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া শিশুটির মা কান্নায় ভেঙে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমি অভিযুক্তের চরম শাস্তি বা মৃত্যু চাই।” পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।