“থানায় নিয়ে পোশাক খুলে বেধড়ক মারধর!” আরএসএস প্রচারকের ওপর পুলিশের পৈশাচিক নির্যাতনে তুলকালাম, বরখাস্ত ৬

রাজস্থানের জয়পুর গ্রামীণের নারাইনা থানায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সম্বর জেলা প্রচারক কৃষ্ণাবতারকে তুলে নিয়ে গিয়ে অকথ্য নির্যাতন ও মারধরের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে জোর করে থানায় ধরে নিয়ে যান এবং সেখানে তাঁর গায়ে জামাকাপড় না রেখে হাত-পা চেপে ধরে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পুলিশি এই নির্যাতনে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই প্রচারক। ঘটনার খবর চাউর হতেই শত শত আরএসএস স্বয়ংসেবকরা থানায় এসে তীব্র প্রতিবাদ জানান, যার জেরে গোটা চত্বরে এক উত্তপ্ত ও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পুলিশের কড়া পদক্ষেপ: সাসপেন্ড ওসি সহ ৬
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবং তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে জয়পুর গ্রামীণের পুলিশ সুপার (SP) হনুমান প্রসাদ মীনা দ্রুত নারাইনা থানায় ছুটে যান এবং পুরো ঘটনার খোঁজখবর নেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নারাইনা থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) উমরাও সিং এবং সহকারী স্টেশন হাউস অফিসার (ASI) ওমকার সিং সহ মোট ছয়জন পুলিশ কর্মীকে অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspended) করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
দুদু থানার সিও-র হাতে তদন্তের ভার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া আরএসএস জেলা প্রচারক কৃষ্ণাবতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত নারাইনা থেকে জয়পুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতন ও গালিগালাজের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য পুরো ঘটনার তদন্তভার দুদু থানার সার্কেল অফিসার (CO) অনুপম মিশ্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া অপর চার পুলিশ কর্মী হলেন— রমেশ চাঁদ, কুলদীপ, মহিপাল, বিনোদ এবং অজয়।
থানার ভেতরে পুলিশের এমন অমানবিক আচরণ এবং উর্দিধারীদের ওপর ওঠা এই গুরুতর মারধরের অভিযোগে গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সকলের নজর রয়েছে।