“ইন্ডিয়া জোটের কাছে ভোট চুরির একরত্তি প্রমাণ নেই!” বিরোধীদের ‘অকেজো কার্তুজ’ বলে মারাত্মক তোপ ওম প্রকাশ রাজভরের

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন এবং ‘ভোট চুরি’র বেনিয়মকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যখন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট সুপ্রিম কোর্টমুখী পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই আক্রমণ শানালেন উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর। বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষ এই জোটকে অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের হাতে ভোট চুরির সপক্ষে কোনো প্রমাণই নেই।

“বিরোধীরা মিথ্যাচার করছে, ভোট চুরির কোনো প্রমাণ নেই”
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি (SBSP)-র প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর বলেন, বিরোধী জোটের নেতারা আসলে ‘অকেজো কার্তুজের’ মতো। আন্দোলন বা মিছিল করার জন্য তাঁরা সম্পূর্ণ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষ নিয়ে রাজভর বলেন, গত এক বছর ধরে তিনি সিইসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি এমন কোনো নতুন নিয়ম বা প্রক্রিয়া আনেননি, যা ১৯৫২ সাল থেকে প্রচলিত নেই। নির্বাচন কমিশনের প্রচলিত নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ
বিপক্ষের দলগুলিকে আক্রমণ করে রাজভর পরিসংখ্যান টেনে বলেন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব গত ১০ বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতার বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস গত ৩০ বছর এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০ বছর ধরে ক্ষমতার মুখ দেখেনি। বহু বছর আগেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জনসমর্থন হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আজ তাঁরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“স্বর্গ-নরক থেকে ভোট দেওয়ানো বন্ধ হওয়ায় ক্ষুব্ধ বিরোধীরা”
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজভর দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ও ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়াতেই বিরোধীদের যত গাত্রদাহ। তাঁর কথায়, “ভোটার তালিকায় আগে এমন অনেক মানুষের নাম ছিল যারা স্বর্গ বা নরকে বাস করত! নির্বাচনের সময় এই লোকগুলোকে ধরে এনে জোর করে ভোট দেওয়ানো হতো এবং কাজ শেষ হলে আবার তাদের সেখানেই ফিরিয়ে দেওয়া হতো।”

তিনি ব্যঙ্গ করে আরও বলেন যে, যারা এতদিন জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট ব্যাংক বাঁচিয়ে রেখেছিল, আজ সেই ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ পড়ার কারণে তারা চিন্তায় পড়ে গেছে যে আগামী দিনে কার নামে ভোট পড়বে। আর সেই কারণেই আজ বিরোধী দলগুলো অস্তিত্বের সংকটে ভুগে এমন মনগড়া প্রতিবাদে মেতেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *