“ইডি-সিবিআইয়ের ২০০ অফিসার আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন!” মোদী সরকারকে সলতে পাকানো হুংকার রাহুল গান্ধীর

কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে এক ডামাডোলের সৃষ্টি করলেন লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেন যে, বর্তমান কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রায় ২০০ জন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা গোপনে বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন এবং সমস্ত অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য তাঁদের সরবরাহ করছেন।
তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনাদের সরকারের ২০০ জন কর্মকর্তা আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং আমাদের খবর দিচ্ছেন। ইডি (ED), সিবিআই (CBI) এবং বিদেশ মন্ত্রকের ভেতর থেকে প্রত্যেকে আমাদের তথ্য পাঠাচ্ছে। আপনারা যা খুশি তাই করতে পারেন, কিন্তু সত্য সবসময় আমাদের পক্ষেই আছে।”
দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে: রাহুল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের আন্দোলন দমাতে এবং সাধারণ মানুষকে রাজধানীতে ঢুকতে বাধা দিতে পুরো দিল্লিকে একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। ট্রেন ও বাস থামিয়ে সাধারণ মানুষকে আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং সর্বত্র পুলিশ মোতায়েন করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকার যতই নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি বাড়াক না কেন, বিরোধীদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ তাতে আরও বেশি তীব্র হবে বলেই হুংকার ছাড়েন কংগ্রেস নেতা।
“৫০ শতাংশ পুলিশকর্মী আমাদের সাথে আছেন”নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে রাহুল দাবি করেন যে, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের যে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে, তাতে দিল্লি পুলিশ, সিআরপিএফ (CRPF) এবং আইটিবিপি (ITBP)-র কর্মীরাও ভেতরে ভেতরে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। পুলিশকর্মীরা নাকি তাঁর কাছে এসে জানতে চাইছেন কেন যুবকদের এভাবে মারধর করা হচ্ছে। রাহুলের দাবি, প্রায় ৫০ শতাংশ পুলিশকর্মী তাঁদের এই আন্দোলনকে নৈতিকভাবে সমর্থন করছেন। প্রশাসনের মনোভাব নিয়ে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্দরেও প্রবল অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা ও সুপ্রিম কোর্টের পথনির্বাচনী প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান যে, এর আগে তিনি ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে চিঠি লিখে একটি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি তাঁদের একটি সুনির্দিষ্ট পিটিশন দাখিল করতে বলেছেন। এই পরিস্থিতিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সমস্ত সাংসদেরা মিলে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্র রক্ষার্থে বিরোধীরা আইনি ও রাজপথের লড়াই যুগপৎ চালিয়ে যাবে বলেই বার্তা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।