মহালয়ায় ঠিক কখন তর্পণ করলে পুণ্য মিলবে? জেনে নিন পিতৃপুরুষকে শ্রদ্ধা জানানোর মোক্ষম সময়!

শরৎকালের আকাশ ছিমছাম মেঘে ঢাকা, বাতাসে পুজোর গন্ধ। আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিনের অপেক্ষা, তার আগেই এসে উপস্থিত মহালয়া। আগামী শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মহাসমারোহে পালিত হবে মহালয়া। রেডিওর নস্টালজিয়া আর ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় মহিষাসুরমর্দিনী শোনার জন্য গোটা বাঙালি জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে তর্পণের মাধ্যমে প্রয়াত পিতৃপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার প্রস্তুতিও তুঙ্গে। তবে জ্যোতিষ ও শাস্ত্রবিদদের মতে, নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট শুভ লগ্নে তর্পণ করলেই কেবল পূর্ণ ফল লাভ করা সম্ভব।

তর্পণ করার সেরা সময় কোনটি? মহালয়ার দিন ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটগুলিতে তর্পণ করার জন্য সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ে তর্পণ করাই শ্রেয়। পঞ্জিকা মতে, অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে আগামী ৯ অক্টোবর রাত ৯:৩৫ মিনিটে এবং তা থাকবে ১০ অক্টোবর রাত ৯:১৯ মিনিট পর্যন্ত।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আগামী ১০ অক্টোবর পিতৃপক্ষের অবসান এবং মাতৃপক্ষের সূচনার এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে তর্পণ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। শনিবার সকাল ১১টা ২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত সময়টিকে তর্পণ করার জন্য সবচেয়ে বেশি পুণ্যদায়ক ও শুভ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই শুধুমাত্র ভোরবেলা নয়, শাস্ত্রসম্মত এই নির্দিষ্ট সময়ে তর্পণ করলে পিতৃপুরুষরা প্রকৃত তৃপ্তি লাভ করেন।

তর্পণের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য: হিন্দু সনাতন ধর্মে মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তর্পণ করার বিশেষ প্রথা রয়েছে। ‘তর্পণ’ শব্দটির অর্থ হলো তৃপ্তি সাধন করা। মূলত জল ও তিল নিবেদনের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের তৃপ্ত করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তাঁরা তুষ্ট হন এবং বংশধরদের সুখ, শান্তি, দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ প্রদান করেন। পরিবারের প্রথা অনুযায়ী এই দিনে সাত্ত্বিক আহার ও বিশেষ সংযম বজায় রাখারও বিধান রয়েছে। সবমিলিয়ে, মহালয়ার এই পবিত্র ক্ষণে তর্পণের মাধ্যমেই বাংলার ঘরে ঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে বেজে উঠবে দুর্গোৎসবের সুদীর্ঘ সানাই!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *