“১০ তারিখে ১০ ঘণ্টা স্তব্ধ হচ্ছে দিল্লি?”-যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি পেল না CJP

আগামীকাল শনিবার, ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে দিল্লি পুলিশ মহলে। সম্ভাব্য বড় ধরনের জমায়েত এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-এর কাছে শহরের মোট ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। যদিও ডিএমআরসি-র পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে রাজধানীর জনজীবন তীব্রভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের অনুমতি দিল না পুলিশ: নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো বড় ধরনের বিক্ষোভের কমপক্ষে ১০ দিন আগে পুলিশের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। যৌথ পুলিশ কমিশনার নূপুর প্রসাদ এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সিজেপি-র পক্ষ থেকে নির্ধারিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই আবেদন করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের অনুমতি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামীকাল ১৬৩ ধারা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ: সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে দিল্লি পুলিশের ট্রান্সপোর্ট রেঞ্জের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রজনীশ গুপ্তা গত ৮ অক্টোবর ডিএমআরসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকাশ কুমারকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে আজ, ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আগামী ১০ অক্টোবর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলির গেট বন্ধ রাখার এবং ট্রেনের সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের আশঙ্কা, বিক্ষোভের জেরে বিশাল জনস্রোত আছড়ে পড়তে পারে এবং উশৃঙ্খল জনতা রাজধানীর বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য তালিকার মধ্যে রয়েছে—জনপথ, প্যাটেল চক, রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, নিউ দিল্লি, মান্ডি হাউস, আইটিও, কাশ্মীর গেট, চাঁদনি চক এবং করোল বাগ সহ মোট ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন।

পুলিশের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন নিত্যযাত্রীরা। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা এবং লেটেস্ট আপডেট দেখেই ঘর থেকে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *