রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় মেগা রদবদল! উঠে গেল মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রদবদল ঘটাল সরকার। অবসান ঘটল পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সমতা, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার এই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নয়া নিয়ম অনুযায়ী, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে তুলে দিয়ে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি (WBSSC)-র সঙ্গে মার্জ বা যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবে একমাত্র এসএসসি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে। ওটা স্কুল সার্ভিস কমিশনে মার্জ করে দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর শিক্ষক নিয়োগের ভবিষ্যত রূপরেখা একদম স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার জন্য আর কোনো পৃথক কমিশন বা আলাদা পরীক্ষা থাকছে না। ঐতিহাসিক পটভূমি ও এই মেগা সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণএই সিদ্ধান্তের পেছনে এক লম্বা ইতিহাস রয়েছে। নবান্ন ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২০০৮ সালের আগে পর্যন্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট বোর্ড ছিল না। ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসাকে প্রথম সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে গঠিত হয় ‘মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন’ এবং তার ভিত্তিতেই এতদিন মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এনে একে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা তোষণ নীতি এবং স্বীকৃত মাদ্রাসার সংখ্যা ৬১৪-তেই থমকে থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনুমোদনহীন বা ভুয়া ‘খারিজি’ মাদ্রাসার বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতেই সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।চাকরিপ্রার্থীদের কী লাভ? দুর্নীতি রুখতে বড় সুবিধামাদ্রাসা নিয়োগের দায়িত্ব সরাসরি স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) হাতে যাওয়ায় শিক্ষক পদের চাকরিপ্রার্থীদের একাধিক সুবিধা হতে চলেছে:জটিলতা ও বিভ্রান্তি নিরসন: এতদিন পরীক্ষার্থীদের সাধারণ সরকারি স্কুলের জন্য এসএসসি এবং মাদ্রাসার জন্য আলাদা পর্ষদের প্রস্তুতির দিকে নজর রাখতে হতো। আলাদা পরীক্ষা ও নিয়মের চক্করে তৈরি হতো চরম বিভ্রান্তি। এখন এক ছাদের তলায় পরীক্ষা হওয়ায় সেই জটিলতা দূর হলো।দ্রুত নিয়োগ ও স্বচ্ছতা: দুটি পৃথক কমিশনের বদলে একটি মাত্র স্বচ্ছ কাঠামোর মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হওয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে এবং নিয়োগের কাজে গতি আসবে।দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ: পৃথক কমিশন ও তার আলাদা পরিকাঠামো পরিপোষণের বাড়তি সরকারি খরচ বাঁচবে। পাশাপাশি একটাই কেন্দ্রীয় কমিশনের আওতায় কড়া নজরদারিতে পরীক্ষা পরিচালিত হওয়ায় স্বজনপোষণ বা দুর্নীতির সুযোগ একেবারেই কমে যাবে।বিধানসভায় আসছে নতুন বিলসরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আইনি বৈধতা দিতে অবশ্য বিধানসভায় বিল পেশ করতে হবে। ২০০৮ সালের পুরনো মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিল করতে এবং এসএসসি (WBSSC) আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতেই শীঘ্রই নতুন বিল পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় বিল পাশ হয়ে আইনি সিলমোহর পাওয়ার পরেই রাজ্যজুড়ে এই নতুন ব্যবস্থা পুরোদমে কার্যকর করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *