“এখন বিশ্রাম নয়!” টানা ২৫ বছর সরকারপ্রধান হিসেবে বিরল নজির গড়ে বড় ঘোষণা নরেন্দ্র মোদীর

মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী পদ মিলিয়ে টানা ২৫ বছর (২০০১-২০২০/২০২৬) সরকারের শীর্ষ প্রধান হিসেবে দেশ ও রাজ্য পরিচালনার এক বিরল ও ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী। এই ২৫ বছর পূর্তির মহা মাহেন্দ্রক্ষণেই দেশবাসীকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন স্লোগান তুলে তিনি স্পষ্ট গলায় হুঙ্কার দিলেন—”উই উইল ডু ইট” অর্থাৎ “আমরা এটা করবই!”
একই সাথে নিজের এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশাপাশি বিরোধীদের অবদানের কথাও স্বীকার করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সোজা বার্তা, “যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছেন, তাঁরা দেখিয়েছেন আস্থার শক্তি; আর যাঁরা সবসময় বিরোধিতা করে গেছেন, তাঁরা আমাকে শেখাচ্ছেন গণতন্ত্রের আসল শক্তি ও গভীরতা।”
“পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া মানুষগুলোই উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে”
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত মেগা ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’-র মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ও ওঠাপড়ার স্মৃতিকথা তুলে ধরেন। মোদী বলেন, “যাঁরা আমাকে জয়ী করেছেন, তাঁরা আমাকে বিনয়ী হতে শিখিয়েছেন। আর যাঁরা প্রতি মুহূর্তে আমাকে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চেয়েছেন, তাঁরাই শিখিয়েছেন কীভাবে হাজার প্রতিকূলতার পর আবার ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়াতে হয়। সমালোচকরা আমাকে নিজের অন্তরাত্মার গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছেন।”
তিনি আরও জানান, এই দীর্ঘ ২৫ বছরে তিনি কোনোদিন নিজেকে একা মনে করেননি। ভারতের সাংস্কৃতিক সত্তাকে রক্ষা করার জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাওয়া লাখ লাখ নিঃস্বার্থ স্বয়ংসেবক ও কার্যকর্তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০০১ থেকে ২০২৬: গুজরাটের ভুজ থেকে চন্দ্রযানের শিক্ষা
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর কোনো নির্বাচিত পদে না থেকেই প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মুহূর্তটিকে স্মরণ করেন তিনি। ২০০১ সালের ধ্বংসাত্মক ভুজ ভূমিকম্প তাঁকে শিখিয়েছিল কীভাবে পুনর্গঠনের কাজে অবিচল থাকতে হয়। অন্যদিকে চন্দ্রযান মিশনের প্রাথমিক ধাক্কা তাঁকে শেখায় ‘ব্যর্থতা থেকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো’, আর করোনা মহামারী বুঝিয়ে দিয়েছিল ‘দেশবাসীর সম্মিলিত লড়াইয়ের শক্তি’।
প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনটি সফল মেয়াদ এবং পরবর্তীতে তিনটি লোকসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়ে টানা তিনবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া—নিজের সমগ্র যাত্রার কৃতিত্ব তিনি দেশের ১৪০ কোটি জনগণের সংবিধান ও গণতন্ত্রের ওপর অটল বিশ্বাসের প্রতি উৎসর্গ করেন।
২০৪৭-এর ভিশন: “এখন বিশ্রাম নয়, কঠোর পরিশ্রমের সময়”
দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসাই যে তাঁর মূল চালিকাশক্তি, তা পুনরায় ব্যক্ত করে মোদী বলেন, “আজকে দাঁড়িয়ে আমাদের কাজ শেষ হয়নি। এখন বিশ্রাম নেওয়ার সময় নয়, বরং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উন্নত রাষ্ট্রে (Developed Nation) পরিণত করার জন্য আমাদের আরও দ্বিগুণ ও কঠোর পরিশ্রম করার সময় এসেছে।”
‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ এবং বিজেপি ও এনডিএ (NDA) সহযোগীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনতার দরবারে মস্তক অবনত করেন। “আমরা করবই, করব”—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে ২০৪৭ সালের নতুন ভারত গড়ার জোরালো সুর বেঁধে দিয়ে নিজের ২৫তম বর্ষপূর্তির ঐতিহাসিক ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।