আমন্ড খোসা সমেত খাবেন নাকি ছাড়িয়ে? এই এক ভুলেই উবে যাচ্ছে সব পুষ্টি, যা বললেন বিশেষজ্ঞরা

প্রতিদিন সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা আমন্ড খাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। তবে আমন্ড খাওয়ার সময় প্রায়শই একটি প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘোরে—এটি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া ভালো, নাকি খোসা সমেত? অনেকেই নিয়ম করে বাদামি খোসা ছাড়িয়ে খান, আবার অনেকে সময়ের অভাবে খোসা সমেতই মুখে তোলেন। এই বাদামি খোসার গুণাগুণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন্ডের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া একেবারেই বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। এই খোসা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়, বরং এর রয়েছে নিজস্ব কিছু অসামান্য স্বাস্থ্যগুণ।

আমন্ডের খোসায় লুকিয়ে কোন গোপন শক্তি?
আমন্ডের পাতলা বাদামি খোসায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা আমাদের হজম প্রক্রিয়ায় দারুণ সাহায্য করে। ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই যাঁরা ওজন কমানোর বা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্য খোসা সমেত আমন্ড খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

ফাইবারের পাশাপাশি এই খোসায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান। এই উপাদানগুলি শরীরের কোষে হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বহু গুণ বাড়িয়ে তোলে।

কেন তবে যুগ যুগ ধরে খোসা ছাড়ানোর রিওয়াজ?
আমন্ডের খোসায় ‘ট্যানিন’ নামক একটি বিশেষ প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। এই ট্যানিনের একটি নেতিবাচক দিক হলো, এটি শরীরে বাদামের ভিটামিন ও প্রোটিন শোষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে। ট্যানিনের উপস্থিতির কারণেই শরীর বাদামের পূর্ণাঙ্গ পুষ্টি পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। প্রধানত এই কারণেই যুগ যুগ ধরে আমন্ডের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার প্রচলন চলে আসছে।

সমাধান লুকিয়ে জলের ছোঁয়ায়
ট্যানিনের এই বাধা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ উপায় হলো আমন্ড সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখা। জলে ভিজিয়ে রাখলে বাদাম যেমন নরম হয়, তেমনই ট্যানিনের কার্যকারিতা অনেকটাই প্রশমিত হয়ে যায়। তখন খোসা সমেত আমন্ড খেলেও শরীরের পুষ্টি শোষণে কোনো ঘাটতি হয় না এবং তা সহজে হজম হয়ে যায়।

কার জন্য কোনটি উপযুক্ত?
যাঁদের হজমশক্তি দুর্বল: যাঁদের পেটের কোনো সমস্যা রয়েছে বা হজম ক্ষমতা কম, তাঁদের জন্য খোসা ছাড়িয়ে আমন্ড খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ খোসাবিহীন নরম আমন্ড পেট খুব সহজেই হজম করে নেয় এবং কোনো অস্বস্তি তৈরি হয় না।

যাঁরা সুস্থ ও স্বাভাবিক: সুস্থ ও স্বাভাবিক হজমশক্তির মানুষ কোনো দ্বিধা ছাড়াই খোসা সমেত বাদাম খেতে পারেন।

দিনে ঠিক ক’টি আমন্ড খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন্ড খোসা সমেত বা ছাড়িয়ে যেভাবেই খান না কেন, সারাদিনে ৫ থেকে ১০টি আমন্ড খাওয়াই শরীরের জন্য আদর্শ। যেকোনো উপাদানের মতো আমন্ডও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পুষ্টির বদলে পেটের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে নিয়ম মেনে পরিমিত আমন্ড খাওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *