“জনগণের করের টাকা নয়ছয় করা যাবে না!” টাকি পুরসভার ২০ কোটির কেলেঙ্কারিতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

টাকি পুরসভার (Taki Municipality) আর্থিক তছরুপের মামলায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় এবার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।

বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করে, “জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ এইভাবে নয়ছয় করা যায় না।”

“উপযুক্ত তদন্ত জরুরি”: প্রাথমিক রিপোর্টের ডেডলাইন বেঁধে দিল হাইকোর্ট
প্রধান বিচারপতি জানান, এই ধরনের গুরুতর ও সংবেদনশীল অপরাধের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্থানীয় থানার হাত থেকে সমস্ত ফাইল ও নথিপত্র অবিলম্বে সিআইডি-র কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১০ ডিসেম্বর। ওই দিনই সিআইডি-কে তদন্তের অগ্রগতির প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে পেশ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কী এই টাকি পুরসভার ২০ কোটির কেলেঙ্কারি?
টাকি পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রবীর দাস পুরসভার অন্দরে ঘটে চলা এই বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।

মামলাকারীর মূল অভিযোগ ও নথিতে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি হলো:

বিপুল অঙ্কের তছরুপ: অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের (AG) অডিট রিপোর্টে প্রকাশ্যে এসেছে যে, টাকি পুরসভার প্রায় ২০ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা: পুরসভার সরকারি কাজের অর্থ বেআইনিভাবে পুরসভারই কয়েকজন কর্মীর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে।

বেআইনি নিয়োগ: কোনো নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা না করে স্বজনপোষণ ও বেআইনিভাবে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের নাম: এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সরাসরি নাম জড়িয়েছে পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর দাস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক শুভ্রকুমার দাসের।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য
এদিনের শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানানো হয় যে, অভিযোগ সামনে আসার পরই স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো ঘটনার তদন্তভার এবার সিআইডি-র হাতেই তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *