“এক নরেন্দ্রর স্বপ্ন পূরণ করলেন আরেক নরেন্দ্র!” প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে ২৫ বছর মোদির, প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব

প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করে এক বিরল ও ঐতিহাসিক নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি। রাজ্যপ্রধান হিসেবে টানা ১৩ বছর কাজ করার পর, ২০১৪ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে টানা সেই আসনে আসীন।

রাজনৈতিক জীবনের এই অসামান্য রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকেই রাজ্যজুড়ে নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি ও উদ্‌যাপনের আয়োজন করেছে বিজেপি এবং এনডিএ পরিচালিত সরকারগুলি। মোদির এই দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রশাসনিক দক্ষতাকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁর প্রশংসায় মুখর হয়েছেন শিবরাজ সিং চৌহান, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ও নিতিন গডকড়ির মতো দলের শীর্ষ নেতারা।

“এক নরেন্দ্রর স্বপ্ন পূরণ করলেন আরেক নরেন্দ্র!”
প্রধানমন্ত্রীর এই ২৫ বছরের যাত্রাকে সম্মান জানাতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দর ঐতিহাসিক ভবিষ্যদ্বাণীর প্রসঙ্গ টেনে আনেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।

মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রায় ১০০ বছর আগে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন ভারত একদিন ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। অর্থাৎ একজন ‘নরেন্দ্র’ যা বলেছিলেন, আরেক ‘নরেন্দ্রর’ হাত ধরে তা সত্যে পরিণত হলো।” তিনি আরও যোগ করেন, মোদির এই কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও দূরদৃষ্টি আজকের উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।

সুশাসন, স্বচ্ছতা ও ‘দেশ প্রথম’ নীতি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মোদির ২৫ বছরের এই দীর্ঘ সফরকে ‘জনসেবা ও নিষ্ঠার প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। অমিত শাহের মতে, মোদি কেবল শাসন পরিচালনা করেননি, বরং জনকেন্দ্রিক নীতি, স্বচ্ছতা এবং কাজের মাধ্যমে রাজনীতিতে ‘কর্মদক্ষতা ভিত্তিক মডেল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজ ভারতের দরিদ্র, নারী ও যুবসমাজ তাঁর উন্নয়নের প্রধান সুফলভোগী।

অন্যদিকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বলেন, “এটি কেবল ২৫ বছরের একটি সময়কাল নয়, বরং একটি আধুনিক ও শক্তিশালী ভারত নির্মাণের ঐতিহাসিক অধ্যায়।”

“সহজ নয়, কঠিন পথটিই বেছে নিয়েছেন মোদি”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মোদির এই দীর্ঘ যাত্রাকে দেশসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার এক অনন্য উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকরি মোদির ‘নির্ভীক নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে বলেন, “এমন বহু মুহূর্ত এসেছে যখন সহজ পথ বেছে নেওয়ার অপশন ছিল, কিন্তু দেশের স্বার্থে আপনি সব সময় কঠিন পথটাই বেছে নিয়েছেন। এমন সাহসিকতা সচরাচর দেখা যায় না।”

সোশাল মিডিয়ায় বিজেপির বিশেষ ভিজ্যুয়াল বার্তা
দলের পক্ষ থেকে মোদির এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (টুইটার) বেশ কয়েকটি বিশেষ ভিডিও বার্তা শেয়ার করা হয়েছে। বিজেপির পোস্টে বলা হয়, “অগণিত প্রতিকূলতা ও বিরোধী আক্রমণের উত্তর তিনি দিয়েছেন কাজের মাধ্যমে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর রূপকল্প তৈরির মাধ্যমে। এটি এমন এক ইস্পাত-কঠিন সংকল্পের গল্প যা কখনো মাথা নত করেনি, থমকে দাঁড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও থামবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *