“প্রাণভয়ে রাস্তায় দৌড়াতে হয়েছে!” রাতের কলকাতায় ক্যাব চালকের তাণ্ডব, চরম হেনস্থার শিকার ‘বাঘিনী’র সম্পিতা

তিলোত্তমা কলকাতায় ফের রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। শুটিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে শহরের বুকে চরম শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের আশঙ্কার মুখে পড়লেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক। জি বাংলার চর্চিত ধারাবাহিক ‘বাঘিনী’-তে ‘মহুয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রতিটি ঘরে ঘরে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী মঙ্গলবার রাতে এক অ্যাপ ক্যাব চালকের হাতে হেনস্থার শিকার হন। চালকের তাণ্ডব, প্রাণভয়ে মাঝরাস্তায় চিৎকার এবং ক্যাব সংস্থার চূড়ান্ত উদাসীনতার কথা সোশাল মিডিয়া লাইভে এসে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তুলে ধরেছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে?
অভিনেত্রী জানান, মঙ্গলবার রাতে শুটিং শেষ করে হাজরা মোড়ের বসুশ্রী সিনেমার সামনে থেকে একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করেছিলেন তিনি। প্রথমে পার্ক স্ট্রিটে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও, শুটিংয়ে দেরি হয়ে যাওয়ায় গন্তব্য বদলে নিজের বাড়ি—দমদম করে দেন তিনি। কিন্তু যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর থেকেই চালকের চালচলন ও আচার-আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক ঠেকতে শুরু করে।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সম্পিতা চালককে অনুরোধ জানান, তিনি আর দমদম যাবেন না এবং তাঁকে যেন রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছেই নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, বারবার আকুতি সত্ত্বেও চালক গাড়ি থামাতে অস্বীকৃতি জানান। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বহু অনুরোধের মাথায় শেষমেশ রবীন্দ্র সরোবরের কাছে গাড়ি থামান চালক।

ব্যাগ ছিনিয়ে দৌড়াদৌড়ি, একটুর জন্য রক্ষা বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে
গাড়ি থেকে নামার সময় শুরু হয় আসল তাণ্ডব। সম্পিতা নিজের ফোন দুটি পকেটে পুরে নিতে পারলেও, তাঁর শুটিংয়ের ভারী ব্যাগটি তখনও ক্যাবের ভেতরেই রাখা ছিল। চালক আচমকা কিউআর কোড (QR Code) এগিয়ে দিয়ে দাবি করেন, বসুশ্রী থেকে দমদম পর্যন্ত যে পুরো ভাড়া অ্যাপে দেখাচ্ছিল, সেই সম্পূৰ্ণ টাকাই তাঁকে মেটাতে হবে।

অভিনেত্রী এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যেটুকু রাস্তা তিনি এসেছেন, সেইটুকুর নির্ধারিত ভাড়াই তিনি দেবেন; না-যাওয়া রাস্তার পুরো টাকা কেন মেটাবেন? এই নিয়ে বচসা শুরু হতেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চালক।

সম্পিতার অভিযোগ, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি নিজের ব্যাগটি কোনোমতে টেনে নিয়ে গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করতেই গাড়ি সজোরে চালিয়ে দেয় চালক! বেশ কিছুটা রাস্তা ব্যাগ আঁকড়ে ধরে চলন্ত গাড়ির সাথে দৌড়াতে বাধ্য হন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, সে মুহূর্তে বড়সড় কোনো পথ দুর্ঘটনা বা তাঁর প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারত। নিজের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাঁচিয়ে কোনোক্রমে তিনি ক্যাব থেকে দূরে সরে আসেন।

সেফটি হেল্পলাইনের চরম উদাসীনতা ও থানায় অভিযোগ
আতঙ্কে তখন হাত-পা কাঁপছিল অভিনেত্রীর। মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ প্রত্যক্ষদর্শীরা তৎক্ষণাৎ এগিয়ে এসে তাঁকে জল খাইয়ে আশ্বস্ত করেন। সম্পিতা ক্ষোভের সাথে জানান, গাড়িতে ওঠার পর পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, তখন তিনি ক্যাব সংস্থার ‘সেফটি হেল্পলাইনে’ (Safety Helpline) বারবার মেসেজ পাঠান এবং জরুরি সাহায্য চান। কিন্তু সংস্থার তরফ থেকে কোনো রকম সাড়া পাওয়া যায়নি।

ক্যাব সংস্থার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং চালকের এমন অপরাধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সম্পিতা প্রামাণিক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে কালীঘাট থানায় (Kalighat Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *